ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বিলাসবহুল রাষ্ট্র মোনাকোতে এক কোটিপতিকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সন্দেহভাজন এক নারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নাটকীয় মোড় এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারকারী ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য এখন দাবি করেছেন যে, বন্দুকের ট্রিগার তিনি নিজে চাপাননি।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে একটি ভিডিও প্রতিবেদনে, যা মোনাকোর বোমা হামলা পরিকল্পনা এবং ইউক্রেনে সংঘটিত ওই গুলির ঘটনার মধ্যেকার রহস্যময় যোগসূত্র অনুসন্ধান করছে। প্রতিবেদনটির সর্বশেষ সংস্করণ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।
জানা যায়, ওই ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা পূর্বে স্বীকার করেছিলেন যে, মোনাকোতে ধনকুবেরের ওপর হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন নারীকে তিনিই গুলি করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজের বক্তব্য থেকে সরে এসে তিনি এখন দাবি করছেন, হত্যাকাণ্ডটি সম্পাদন করলেও সরাসরি ট্রিগার টানা তার কাজ ছিল না। এই স্ববিরোধী বক্তব্য গোটা ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে এবং তদন্তকারীদের জন্য নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইউরোপের দুই ভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন দুটি সহিংস ঘটনার মধ্যে একটি জটিল আন্তর্জাতিক চক্রান্তের আভাস মিলছে। একদিকে ভূমধ্যসাগরের তীরে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে এক রহস্যজনক গুলিবর্ষণ— উভয়ের সূত্র ধরে উঠে আসছে গোয়েন্দা তৎপরতার গন্ধ।
ঘটনাটির সাম্প্রতিক এই বাঁক নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলো এবং স্বীকারোক্তির পর কেন এমন অবস্থান পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




