দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই দাবানলে অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৩ জন।
বেদার গ্রামের আশপাশের এলাকায় শতাধিক দমকলকর্মী ও বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েন করা হয়েছে। লস গ্যালার্ডোস এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, নিহতদের মধ্যে আরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিক থাকতে পারেন।
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঘটনা বেড়েছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনে গত কয়েক দিন ধরেই দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে লস গ্যালার্ডোসে তীব্র তাপ, শুষ্ক মাটি ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বিদ্যুৎ লাইন খসে পড়ার কারণে এই আগুনের সূত্রপাত। তবে স্থানীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো এই দাবি অস্বীকার করেছে। পুড়ে যাওয়া একটি গাড়ির ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি বিভাগের মন্ত্রী আন্তোনিও সানজ জানান, গাড়িটির স্টিয়ারিং ডান পাশে থাকায় ধারণা করা হচ্ছে তারা ব্রিটিশ নাগরিক।
বেদার থেকে পালিয়ে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী লুসিন্ডা কার্টোয়া বিবিসিকে জানান, তাঁর সঙ্গী রিয়াজ চেতন ও তাঁদের কিশোর সন্তানদের নিয়ে স্পেনে ছুটিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “প্রায় মাশরুম ক্লাউডের মতো ধোঁয়া উঠছিল, মনে হচ্ছিল কোনো বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।” তিনি আরও জানান, অন্তত আরও দুই ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে তাঁর আশঙ্কা।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রস্তাবিত নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার পথ ব্যবহার করেননি। তবে এই নির্দেশনা কতটা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানান, দেশটির অনেক নাগরিকের স্পেনে দ্বিতীয় বাড়ি রয়েছে। কনস্যুলার সার্ভিসগুলো তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এএমইটি-এর আন্দালুসিয়া শাখা জানিয়েছে, শনিবার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা করা যাচ্ছে। মাঝারি বাতাস ও অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলতে পারে।
স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানলের তালিকায় এটি এখন অন্যতম। ১৯৮৪ সালে লা গোমেরায় ২০ জন এবং ১৯৭৯ সালে লোরেট দে মার এলাকায় ২১ জন নিহত হয়েছিলেন। কোপার্নিকাস জলবায়ু সেবা জানিয়েছে, বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণায়নশীল অঞ্চল ইউরোপ। তাপপ্রবাহ বাড়ার ফলে পানি সংকট ও দাবানলের তীব্রতা আরও বাড়ছে।




