বাংলা ভাষায় আপেক্ষিকতা নিয়ে লেখার অভাব অনেকদিন ধরেই লক্ষণীয়। বিশেষ আপেক্ষিকতার উপর বই সহজে পাওয়া গেলেও সাধারণ বা সার্বিক আপেক্ষিকতার মানসম্পন্ন পাঠ্যবই পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। বাংলাদেশের উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকদের মধ্যে বাংলায় লেখালেখির প্রতি অনীহা থাকায় এই বিষয়ের বইয়ের সংকট আরও প্রকট। তবে এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছেন প্রখ্যাত শিক্ষক ও বিজ্ঞানী অধ্যাপক এ এম হারুন-অর-রশীদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক এ লতীফ চৌধুরী। তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রকাশিত হয়েছে 'সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব' গ্রন্থটি, যা মূলত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে রচিত। বইটিতে ১৬টি অধ্যায় রয়েছে, যার প্রতিটি আবার ছোট ছোট অনুচ্ছেদে বিভক্ত। প্রথম অধ্যায়ে সার্বিক আপেক্ষিকতার ঐতিহাসিক পটভূমি, সমতুল্যতার নীতি, ক্ষেত্র সমীকরণের সমাধান, ব্ল্যাকহোল, বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানের দূরদৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায় বিশেষ আপেক্ষিকতার গভীর বিশ্লেষণে নিবেদিত। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ে স্থান-কালের বক্রতা, বক্রজ্যামিতি, আধুনিক গণিত, জিওডেসিক জ্যামিতি ও রিমানীয় বক্রজ্যামিতির গাণিতিক সমীকরণসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে আইনস্টাইনের নতুন মহাকর্ষ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, আর সপ্তম অধ্যায়ে কার্ল শোয়ার্জশিল্ডের বিখ্যাত ব্ল্যাকহোল সমীকরণের সমাধান উপস্থাপন করা হয়েছে। অষ্টম অধ্যায়ে টেন্সর ঘনত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে আইনস্টাইন দ্বারা উদ্ভাবিত টেন্সর বিশ্লেষণের চমৎকার উদাহরণ পাওয়া যায়। নবম অধ্যায়ে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। গ্রন্থটি তিতাস পাবলিকেশনস থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যন্ত মূল্যবান সংযোজন বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব: বাংলায় বিরল পাঠ্যবই প্রকাশ, জানালেন এ এম হারুন-অর-রশীদ ও এ লতীফ চৌধুরী
বাংলাদেশে উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের একটি বিরল বাংলা পাঠ্যবই প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক এ এম হারুন-অর-রশীদ ও এ লতীফ চৌধুরী রচিত বইটিতে ১৬টি অধ্যায়ে আইনস্টাইনের তত্ত্ব, ব্ল্যাকহোল ও বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বের গাণিতিক ব্যাখ্যা রয়েছে।


