সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমরি চিপের জাহাজীকরণে এক চীনা প্রতিষ্ঠান এখন বিশ্ববাজারে শীর্ষস্থান দখল করেছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রন টেকনোলজি এবং জাপানের কিওক্সিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির নাম অবশ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি, তবে শিল্পসূত্র বলছে, চীনের ইয়াংৎজি মেমোরি টেকনোলজিস (ওয়াইএমটিসি) এই সাফল্য অর্জন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে ডিআরএএম এবং ন্যান্ড — দুই ধরনের মেমরি চিপেরই চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে এআই সিস্টেমে বিপুল পরিমাণ ডেটা দ্রুত প্রসেস ও সংরক্ষণের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমরি চিপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
মার্কেট রিসার্চ প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই চীনা প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক প্রান্তিক ধরে ধারাবাহিকভাবে তাদের জাহাজীকরণের পরিমাণ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, মাইক্রন এবং কিওক্সিয়া — যারা দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল — তারা এখন পিছিয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী মেমরি চিপ বাজারের গতিপ্রকৃতিতে এই পরিবর্তনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, ডিআরএএম খাতও এআই চাহিদার সুবিধা পাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন, যেমন- ভাষা মডেল প্রশিক্ষণ, ছবি ও ভিডিও প্রক্রিয়াকরণ, এবং রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণে দ্রুতগতির ও কম বিদ্যুৎ খরচকারী মেমরি চিপের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে সেমিকন্ডাক্টর বাজার এই মুহূর্তে একটি চাঙ্গা অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
তবে, এই চীনা প্রতিষ্ঠানের উত্থানকে ঘিরে কিছু ভূরাজনৈতিক প্রশ্নও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনের সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে মেমরি চিপ বাজারে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।




