ডিজিটাল ফরেনসিক এবং ইনসিডেন্ট রেসপন্স (DFIR) বিশেষজ্ঞ ব্রেট শেভারস ডিজিটাল তদন্ত প্রক্রিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বর্তমানে ডিজিটাল তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এমন ব্যক্তিদের দ্বারা নেওয়া হচ্ছে যাদের এই খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। প্রশাসনিক হিসাব-নিকাশ বা স্প্রেডশিটের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ে মামলার আসামি, ভিকটিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনের ওপর।

শেভারসের মতে, ডিজিটাল তদন্ত কেবল কারিগরি টুল ব্যবহারের নাম নয়, বরং এটি একটি 'তদন্তকারী মানসিকতা'র বিষয়। তিনি মনে করেন, একটি ফরেনসিক টুল হার্ড ড্রাইভ বা ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, কিন্তু মামলার মূল প্রশ্নটি কী হবে তা নির্ধারণ করতে পারে না। একজন গোয়েন্দার মতো চিন্তা করা এবং প্রতিটি প্রমাণকে এমনভাবে যাচাই করা যাতে তা আদালতের জেরা মোকাবিলা করতে পারে—এটাই এই পেশার মূল লক্ষ্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক তদন্তকারী এখন কেবল টুল ব্যবহার করে প্রাপ্ত ফলাফলকেই চূড়ান্ত রিপোর্ট হিসেবে গ্রহণ করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমানে ফরেনসিক সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যুক্ত করছে। যদিও বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণের জন্য এআই প্রয়োজনীয়, তবে শেভারস সতর্ক করেছেন যে, এআই কেবল সম্ভাব্যতা (probability) প্রদান করে, যা চূড়ান্ত প্রমাণ (proof) নয়। ডিজিটাল ফরেনসিসে 'পুনরাবৃত্তি' বা repeatability একটি মৌলিক শর্ত; অর্থাৎ একজন তদন্তকারীর পাওয়া ফলাফল অন্যজনের দ্বারা পুনরায় যাচাইযোগ্য হতে হবে। কিন্তু এআই মডেলগুলো একই প্রশ্নে ভিন্ন উত্তর দিতে পারে, যা এই নিয়মটিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।

যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে তিনি টেনে আনেন টেনেসিতে এক বৃদ্ধাকে ভুল ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির কারণে পাঁচ মাস জেলে থাকার ঘটনা এবং ইউটাহতে এআই-এর মাধ্যমে তৈরি একটি হাস্যকর পুলিশ রিপোর্ট, যেখানে মুভির অডিওকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করেন যে, সূক্ষ্ম ভুলগুলো আরও বেশি বিপজ্জনক কারণ সেগুলো দেখতে একদম সত্যের মতো মনে হয়।

এই সমস্যা সমাধানে ব্রেট শেভারস 'ম্যাগনেট ফরেনসিকস' (Magnet Forensics)-এর সাথে অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা একটি স্বাধীন গবেষণা সমীক্ষা পরিচালনা করবে, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নেতা, তদন্তকারী এবং প্রসিকিউটরদের মতামত নেওয়া হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক অনুমান নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ডিজিটাল তদন্তের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা।

পরিশেষে, শেভারস গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, সফটওয়্যার বা মেশিন আদালতের সামনে শপথ নেয় না, বরং মানুষই সেই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে শপথ নেয়। তাই এআই-এর ব্যবহার কীভাবে হবে, তা যদি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ পেশাদারদের দ্বারা নির্ধারিত না হয়, তবে ভুল তথ্যের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তি সাজা পেতে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে।