মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখের গুম হওয়ার অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বাহিনীটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে, প্রথম আলোর অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটিতে উত্থাপিত বক্তব্য একতরফাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘মোংলায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় আসক’ ও ‘মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ তদন্ত দাবি’ শিরোনামে প্রতিবেদন দুটি যথাক্রমে ২৯ ও ৩০ জুলাই প্রকাশিত হয়। কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত এই সংবাদগুলোতে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায়ই অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে কোস্টগার্ডের দৃঢ় বক্তব্য, নিখোঁজ ওই ব্যক্তিকে তারা কখনো গ্রেপ্তার বা নিজেদের হেফাজতে নেয়নি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যপরিচালনা নথিপত্র, টহল কার্যক্রম ও আভ্যন্তরীণ তল্লাশি সম্পন্ন করে বাহিনীটির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার সপক্ষে প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, ঘটনার তারিখে ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোস্টগার্ডের কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

কোস্টগার্ডের ভাষ্যে আরও ইঙ্গিত করা হয় যে, মিরাজ শেখ সুন্দরবনের একটি বনদস্যু চক্রের সঙ্গের যোগসূত্রতা বজায় রেখে গোপন তথ্য সরবরাহ, রসদ ও লজিস্টিক সাপোর্ট এবং জেলেদের নিকট থেকে মুক্তিপণ সংগ্রহের কাজে সহায়তা করতেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অস্তিত্ব রয়েছে। পাশাপাশি, বনদস্যু গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অর্থের ভাগবাটোয়ারা ও সাংগঠনিক বিরোধের কারণে তার নিরুদ্দেশ হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানানো হয়।

এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় নিবন্ধিত সাধারণ ডায়েরিতেও কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে কোনোপ্রকার সন্দেহ বা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়নি বলেও প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। বাহিনীটি আরও জানায়, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে তাদের জোরদার তৎপরতার ফলশ্রুতিতেই গত ১১ জুন হারবারিয়ার কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার মতো ঘটনা ঘটেছে। এবং ওই মামলার আসামীদেরই অধিকাংশ এই গুমের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত বলে তারা মনে করে।

এদিকে, সংবাদটির প্রতিবেদকের বক্তব্য, প্রতিবেদিত প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর নিজস্ব অনুসন্ধান নয়; বরং এটি মানবাধিকার সংস্থা আসকের তথ্যানুসন্ধানী দল কর্তৃক গণমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।