আগামীকাল ১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে 'জুলাই জাগরণ সিজন-২'। গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি স্মরণে সাইমুম শিল্পগোষ্ঠী আয়োজিত এই চার দিনের উৎসব রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সিবগাতুল্লাহ সিবগা জানান, এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য জুলাই অভ্যুত্থানে শিশুদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগ। এই উদ্দেশ্যে আয়োজন জুরি রয়েছে নানা আয়োজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নির্ভর চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনী। তিনি বলেন, মঞ্চনাটক ও আবৃত্তি পরিবেশনায় একটি বড় অংশ শিশুরাই উপস্থাপন করবে। গতবারের তুলনায় এবার 'আয়নাঘর' প্রদর্শনীটি আরও সম্প্রসারিত রূপে উপস্থাপন করা হবে।

শিশু দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ 'কিডস জোন', যেখানে খেলাধুলার সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হবে বিকেল থেকে। আয়োজনে থাকছে জুলাই আন্দোলনের স্মরণীয় স্থাপনার উপর ভিত্তি করে তৈরি 'মিনিয়েচার জোন' এবং শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য একটি 'কবরস্থান কর্নার'। সিবগাতুল্লাহ আরও জানান, যেসব শিশু এখনো বায়োস্কোপ দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি, তাদের জন্য রাখা হবে 'জুলাই বায়োস্কোপ'। তদানীন্তন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরতে 'জুলাইয়ের ধ্বংসযজ্ঞ প্রদর্শনী' ও 'বখতিয়ার থেকে জুলাই' শীর্ষক প্রদর্শনীও থাকবে।

'আইকনিক কর্নার' নামক একটি বিশেষ বিভাগে আবু সাঈদ, মুগ্ধ প্রমুখ শহীদের স্মরণীয় নানা মুহূর্তের ক্যারিকেচার তুলে ধরা হবে। সিবগাতুল্লাহ দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের অবসান। কিন্তু সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এখনো যথেষ্ট পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ছাত্রশিবিরের এই নেতা আরও অভিযোগ তোলেন যে, পুরোনো সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীগুলি নানামুখী চক্রান্ত ও অপপ্রচার চালিয়ে ছাত্র-জনতার অর্জনকে বিতর্কিত করার এবং ফ্যাসিবাদী বয়ান পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।