সরকারি চাকরির বিভিন্ন পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে অন্যকে বসিয়ে পাস করানোয় জড়িত অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকাস্থ সিআইডি সদর দপ্তর থেকে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত একজন ব্যক্তি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ছয়জন আটক হয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের (কক্সবাজার) জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কর অঞ্চল-২ এর অফিস সহায়ক নূরুন্নবী, এবং মো. সোহেল। এদের মাঝে জুলফিকার আলী সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় সমবায় ক্যাডারে সুপারিশ্পরাপ্ত হন। বৃহস্পতিবার সিআইডির নোয়াখালী ইউনিট পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

গোটা জালিয়াতির শুরুটা ধরা পড়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতায় ‘কর অঞ্চল-নোয়াখালী’র বিভিন্ন গ্রেডের পদে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। গত ৫ জুন নোয়াখালীর তিনটি পরীক্ষাকেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ধাপে ধাপে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে ১১২ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। কর্তৃপক্ষ ২১ জুন নথিপত্রসহ তাঁদের চূড়ান্ত যোগদানের নির্দেশ দেন।

যোগদানের সময় কাগজপত্র যাচাই পর্যায়ে অফিস সহায়ক পদের জন্য মনোনীত মো. কামাল উদ্দিন ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে মনোনীত মো. নাসফুরুল্লাহার হাতের লেখা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। মূল আবেদনপত্রের লেখার সাথে মৌখিক পরীক্ষার চেকলিস্টের হস্তলিপির সুস্পষ্ট অমিল ধরা পড়ে। কর্তৃপক্ষ তাদের একই লেখা পুনরায় লিখতে বললে জালিয়াতির বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়। জেরার মুখে উভয়েই স্বীকার করেন যে পরীক্ষায় তাঁরা নিজেরা বসেননি, বরং ভিন্ন ব্যক্তিরা তাঁদের বদলে খাতায় কলম চালিয়েছেন।

পরবর্তী দিন ২২ জুন নথি যাচাইকালে মো. সুজন নামের আরেক প্রার্থীর কলমের লেখারও অমিল ধরা পড়ে। তৎক্ষণাৎ সুকৌশলে অবস্থা বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যান রাশেদ উদ্দিন নামে তার এক সহযোগী। জিজ্ঞাসাবাদে মো. সুজনও ভুয়া পরীক্ষার্থীর মাধ্যমেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে নেন।

এ সকল ঘটনার প্রেক্ষিতে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে সিআইডির তফসিলভুক্ত তদন্ত ভার পেয়ে নোয়াখালী জেলা ইউনিট তদন্তকার্য শুরু করে। সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংঘবদ্ধ দলটি বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ভুয়া পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মিত প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পলায়নের চেষ্টাকালে জুলফিকার আলীকে এবং চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ কর্মস্থল থেকে নূরুন্নবী ও সোহেলকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের আটক করতেও তাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে।