২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ করা হয়েছে। খাদ্য পরিপাকে অগ্ন্যাশয় ও ক্ষুদ্রান্তের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
প্রথমে স্থূলতা ও ইমালসিফিকেশন ধারণা দুটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমে অস্বাভাবিক অবস্থাকে স্থূলতা বলা হয়। অন্যদিকে, স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকের সময় লাইপেজ এনজাইমের সহায়তায় চর্বিকে অতি ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে। যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরসের পিত্তলবণ এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরবর্তী অংশে Q চিহ্নিত অংশটি অগ্ন্যাশয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাকস্থলীর নিচে অবস্থিত নলাকার এই গ্রন্থিটি খাদ্য পরিপাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে। প্রোটিনজাতীয় খাদ্যের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ট্রিপসিনোজেন এন্টারোকাইনেজের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ট্রিপসিনে পরিণত হয়। এই এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোনকে ভেঙে ডাইপেপটাইড ও অ্যামাইনো অ্যাসিডে রূপান্তর করে। শর্করাজাতীয় খাদ্যের জন্য অ্যামাইলেজ এনজাইম স্টার্চ ও গ্লাইকোজেনকে মল্টোজে পরিণত করে। পরে অগ্ন্যাশয়িক মল্টোজ এনজাইম মল্টোজকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে। লিপিডজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে অগ্ন্যাশয়িক লাইপেজ এনজাইম চর্বিকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে ভেঙে ফেলে। এছাড়া ফসফোলাইপেজ ও কোলেস্টেরল এস্টারেজ যথাক্রমে ফসফোলিপিড ও কোলেস্টেরল এস্টারকে ফ্যাটি অ্যাসিডে রূপান্তর করে। এভাবেই অগ্ন্যাশয় খাদ্যকে শোষণযোগ্য সরল উপাদানে পরিণত করতে সাহায্য করে।
R অংশটি ক্ষুদ্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত। পরিপাকতন্ত্রে পরিপাককৃত খাদ্যসারের পরিশোষণের প্রধান স্থান হলো ক্ষুদ্রান্ত। এখানে মিউকোসা স্তরে অবস্থিত ভিলাই পরিশোষণের একক হিসেবে কাজ করে। অ্যামাইনো অ্যাসিড ও সরল শর্করা ভিলাইয়ের কৈশিক জালিকার মাধ্যমে রক্তে শোষিত হয়ে পোর্টালতন্ত্রে বাহিত হয়। অন্যদিকে চর্বিজাতীয় খাদ্যসার ভিলাইয়ের লসিকার মাধ্যমে শোষিত হয়ে লসিকাতন্ত্রে পরিবাহিত হয়। অধিকাংশ পানি ক্ষুদ্রান্তেই শোষিত হয়। এখানে বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। পরিপাকতন্ত্র থেকে খাদ্যসার ক্ষুদ্রান্তে এসে পৌঁছায়। যদি ক্ষুদ্রান্তে এই পরিশোষণ না ঘটে, তাহলে খাদ্যসার বর্জ্য হিসেবে পায়ুপথে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যাবে। ফলে দেহের বৃদ্ধি ও শক্তি অর্জনে তা কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।
সুতরাং, অগ্ন্যাশয় ও ক্ষুদ্রান্ত উভয়ই পরিপাক ও পরিশোষণ প্রক্রিয়ায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। অগ্ন্যাশয় বিভিন্ন এনজাইম নিঃসরণের মাধ্যমে জটিল খাদ্যকে সরল উপাদানে পরিণত করে, আর ক্ষুদ্রান্ত সেই সরল উপাদানগুলোর শোষণ নিশ্চিত করে।




