দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগের দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের হাতে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় গত বছর সেপ্টেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেয়। সে সময় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্যকে রাখা হয়নি। ওই কমিটিই কর্মচারী নিয়োগের পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও সুপারিশের দায়িত্ব পালন করত।
তবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জারি করা নতুন পরিপত্রে আগের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রটি নাকচ করে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারির নির্দেশিকাটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ফলে আবারও পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমেই কর্মচারী নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হলো।
নতুন নির্দেশনা অনুসারে, নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ ও স্নাতক (পাস) কলেজে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য পদে নিয়োগের সুপারিশ আগের নিয়মেই হবে। এই পদের মধ্যে রয়েছে ট্রেড সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, গবেষণা বা ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া ও অফিস সহায়ক। তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়।
জানা গেছে, সরকার সম্প্রতি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদেও নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পদের জন্য ইতিমধ্যে নিয়োগ পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ তো আগেই এনটিআরসিএর সুপারিশের ভিত্তিতে হচ্ছে।
তবে কর্মচারী নিয়োগে আবারও পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ায় পূর্বের মতো অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।




