হঠাৎ করে অনেকেই খেয়াল করে থাকেন যে শরীরের ব্যক্তিগত স্থানগুলোর ত্বকের বর্ণ আগের চেয়ে গাঢ় দেখাচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখে মনে চিন্তার উদয় হওয়াই স্বাভাবিক, এটি কি কোনো জটিল অসুখের ইঙ্গিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তনটি দেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ এবং আতঙ্কিত হওয়ার বিশেষ কিছু নেই। শুধু প্রাইভেট অংশ নয়, বগলের নিচে, কনুই, হাঁটু, আঙুলের জোড়া, স্তনের বোঁটা ও তার চারপাশের বৃত্তাকার জায়গা (অ্যারিওলা), ঘাড়ের ভাঁজ এবং উরুর অন্তর্বর্তী স্থানেও ত্বকের রং গাঢ় হতে পারে।
তবে, যদি এই পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ প্রকাট হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করাটাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
যে কারণে ত্বক কালচে হয়প্রথমত, হরমোনের প্রভাব একটি বড় ভূমিকা রাখে। বয়ঃসন্ধির পর থেকে শরীরের অভ্যন্তরে হরমোনের তারতম্যের ফলে ত্বংকের রঞ্জক পদার্থ মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে। এর ফলস্বরূপ, ল্যাবিয়া, অণ্ডথলি বা স্ক্রোটাম, এবং পায়ুপথের আশপাশের ত্বং স্বাভাবিক কারণেই কিছুটা গাঢ় দৃষ্ট হয়। গর্ভধারণ বা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পার্থক্যটি আরও দৃশ্যমান হতে পারে। একই প্রক্রিয়ায় অনেকের স্তনের বোঁটা, অ্যারিওলা কিংবা তলপেটের নিচের দাগটিও গাঢ় হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, ঘর্ষণ একটি প্রচলিত কারণ। ব্যক্তিগত এলাকার ত্বং প্রায় প্রতিনিয়ত ঘর্ষণে থাকে। অতিরিক্ত চুস্ত পোশাক, হাঁটার সময় উরুর ভেতরেক্টের সংস্পর্শ, যৌনক্রিয়া, শেভিং বা ওয়াক্সিং— এই সবকিছুর প্রভাবে বারবার ঘষা লগার কারণে মেলানিনের উৎপাদা বেড়ে গিয়ে ত্বং ধীরে ধীরে কালচে হতে পারে।
তৃতীয়ত, প্রদাহ বা সংক্রমণ এর পেছনে দায়ী থাকতে পারে। ইস্ট ইনফেকশন, ত্বংকের ভেতর লোম ঢুকে যাওয়া (ইনগ্রোন হেয়ার), লোমকূপের প্রদাহ বা ফলিকুলাইটিস অথবা অন্য যেকোনো ধরণের প্রদাহের পর সেখানে একটি কালো দাগ রেখে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাটিকে পোস্ট-ইনফ্লামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন বলা হয়ে থাকে।
সবশেষে, বয়স বাড়ার প্রভাবও অস্বীকার করা যায় না। বছরের পর বছর ধরে হরমোনের পরিবর্তন এবং ঘর্ষণের প্রভাব ক্রমান্বয়ে জমা হতে থাকে। যার ফলে ব্যক্তিগত অঙ্গের ত্বং ধীরে ধীরে আরও গাঢ় রূপ ধারণ করতে পারে।
সমাধানের উপায় কী?চিকিৎসকদের মতে, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই তাদের গোপন অঙ্গের ত্বং দেহের অন্যান্য স্থানের তুলনায় খানিকটা গাঢ় হয়। সবার ত্বংকের রং এক রকম নয়, তাই স্বাভাবিক ব্যক্তিগত অঙ্গের রং ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন হতে পারে। হরমোনজনিত বা বয়সের কারণে হওয়া পরিবর্তন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে ঘর্ষণ কমিয়ে কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে। যেমন, অত্যধিক টাইট জামাকাপড় পরিহার করা, ত্বং পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক অবসিায় রাখা, প্রয়োজন ছাড়া বারবার শেভিং বা ওয়াক্সিং না করা, ঘাম শোষণে সক্ষম আরামদায়ক কাপড় পরিধান করা, এবং ত্বং শুকিয়ে গেলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা।
কখন বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হবেন?নিছক ত্বকের বর্ণ কিছুটা কালো হয়ে যাওয়া সাধারণত কোনো দুশ্চিন্তার বিষয় নয়। কিন্তু নিচের যেকোনো উপসর্গ যদি দেখা দেয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:
- ত্বংকের রং হঠাৎ করে দ্রুত পরিবর্তন হওয়া।
- তীব্র চুলকানি বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হওয়া।
- ব্যথা, ক্ষত সৃষ্টি হওয়া বা রক্ত বের হওয়া।
- ত্বং অস্বাভাবিকভাবে মোটা, খসখসে বা মখমলের মতো অনুভূত হওয়া।
- আঁচিল, ফোটা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক দাগের আবির্ভাব।
- দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বা সংক্রমণের অন্য কোনো ইঙ্গিত পাওয়া।
লেজার ট্রিটমেন্ট নেওয়া যায় কি? শুধু রঙের তারতম্য যদি অস্বস্তির কারণ হয়, তাহলে লেজার বা কেমিক্যাল পিলের মতো কিছু কসমেটিক প্রসিডিউর আছে। কিন্তু যেহেতু এই অঞ্চলের ত্বং অতি সংবেদনশীল, তাই সামাজিক মাধ্যমে দেখে বা ঘরোয়া কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করে ত্বংক উজ্জ্বল করার প্রয়াস না করাই উচিত। অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই এগোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সূত্র: হেলথ লাইন




