গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারীরা সবচেয়ে সামনের সারিতে ছিলেন, কিন্তু সেই আন্দোলন সফল হওয়ার পর তাঁদের অনেকেই আর কোথাও স্থান পাননি—এমন অভিযোগ উঠেছে এক আলোচনা সভায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইডিইবি) আয়োজিত ‘জুলাই নারী সমাবেশ ২০২৬’-এ এই প্রসঙ্গে কথা বলেন অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীকর্মীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, অভ্যুত্থানে নারীদের কীর্তি আজও অগোচরেই থেকে গেছে। পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো বাংলাদেশে এক ধরনের প্রবণতা তৈরি করেছে, যেখানে নারীরা পিছিয়ে পড়ছেন। এই প্রবণতা কেন তৈরি হলো এবং তা থেকে বের হওয়ার উপায় কী—সেই বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তি এই সমাবেশের আয়োজন করে। এটি এনসিপির ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির একটি অংশ, যা জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চলছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বারবার প্রশ্ন উঠেছে যে জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা সম্মুখসারিতে থাকলেও আজ তাঁরা কোথায়? তিনি এই প্রশ্নকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করে বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। গত দুই বছরে রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা প্রতিফলিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পরও রাষ্ট্রকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। স্মরণ করা হয় ২০২৪ সালের ১৪ জুলাইয়ের ঘটনা। ওইদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন। সেই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হলের ফটকের তালা ভেঙে বেরিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরেরদিন ভিসি চত্বরে ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাও আন্দোলনের গতিপথ বদলে দিয়েছিল। ঠিক দুই বছর পরে এই দিনে নারীশক্তির সমাবেশে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করা হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম ও ডাকসুর সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা ঝুমা ও জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাফিয়া রেহনুমা হৃদি। নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন সভাপতিত্ব করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের নারীরা হারিয়ে যাচ্ছেন: নাহিদ ইসলামের স্বীকারোক্তি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে নারী সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, অভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থাকা নারীরা এখন রাজনীতিতে জায়গা হারিয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই প্রশ্নকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।


