বন্ধু-স্বজনদের স্নেহ, আতিথেয়তা আর নিঃস্বার্থ সহযোগিতার মাঝে সম্প্রতি কানাডার সাসকাটুন ভ্রমণ শেষ করে ফিরে এসেছি। এই সফরের শুরুটা ছিল অনেকটা বাধ্য হয়ে, তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়ে উঠেছে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। বার্সেলোনা থেকে আমি এবং মিশিগান থেকে লিমন ও ইমাম — সবাই টরন্টো এয়ারপোর্টে মিলিত হই, এরপর পরের ফ্লাইট ধরে একসঙ্গে পৌঁছাই সাসকাটুনে। ভ্রমণের মূল পরিকল্পনা ছিল বন্ধু সৌরভের শহরটি দেখা, কিন্তু আমাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর যে প্রতিশ্রুতি সে দিয়েছিল, সেটি সে রাখেনি। অবশ্য এটাই একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল না, এই সফরে সে আরও অনেক প্রতিশ্রুতিই রাখেনি। তবে পারিবারিক অভিমান সত্ত্বেও ওয়ালমার্টে মন খারাপ করে সময় কাটানোর যে কৌশল, সেটি সে আগের মতোই দেখিয়েছে। সৌরভের স্ত্রী, আমাদের বউদির আন্তরিক আতিথেয়তা না পেলে এই শহরে এমন মধুর অভিজ্ঞতা হয়তো কোনোদিনই হতো না। তাঁর আপ্যায়নই এই সফরটিকে আমাদের মনে অম্লান করে রেখেছে। শহরটিতে প্রায় আট হাজার বাংলাদেশির বসবাস, যা জানার পর পুরো শহরটি ঘুরে দেখি আমরা। পটাশ খনি, দক্ষিণ সাসকাচোয়ান নদী এবং মিওয়াসিন উপত্যকাও ছিল আমাদের ভ্রমণ তালিকায়। সবগুলো স্থানই বেশ মনোরম বলে মনে হয়েছে। জীবনের অনেক পরিকল্পনার মতোই গাড়িতে চড়ে বেরিয়ে পড়াটাও ছিল সম্পূর্ণ হিসাবের বাইরের এক পাগলামি। আমার জন্য সেটি ছিল বিশাল এক যাত্রা। ক্লান্তি বা সময়ের কোনো হিসাব না করেই শুরু হয়েছিল সেই পথচলা। প্রিন্স আলবার্ট ন্যাশনাল পার্ক ঘুরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর হঠাৎই ঠিক করলাম, আরও ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে কানাডার দ্বিতীয় সুন্দরতম স্থান হিসেবে পরিচিত ব্যাফ ন্যাশনাল পার্ক এবং লেক লুইস, আলবার্টায় ছুটে যাব। শেষ পর্যন্ত সেই দুঃসাহসিক কাজটিও সম্পন্ন করেছি। পথে আরও বেশ কিছু অপরিকল্পিত স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে। এই ভ্রমণে মাজহার জনির অনুপস্থিতি বারবার মনে পড়েছে। পারিবারিক কারণে সে আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেনি, কিন্তু ফোনের মাধ্যমে সারাক্ষণ এমনভাবে বোকা খোঁচা দিয়েছে যে মনে হয়েছে সে যেন আমাদের সঙ্গেই আছে। দূর থেকে পুরো সফরের দুষ্টু সঙ্গী হিসেবে তার দায়িত্বপালন সত্যিই প্রশংসনীয়। ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা আরিফ ভাইয়ের পরামর্শগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভ্রমণ শেষে তার কিছু কথা হয়তো বাস্তব জীবনের পথচলায় অনেক কাজে লাগবে। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল কামনাশীষ দাদার নিঃস্বার্থ সাহচর্য। ২৯ জুলাই ওয়াইএক্সই বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ২ আগস্ট বিদায় নেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের সব ব্যক্তিগত ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে আমাদের জন্য সময় দিয়েছেন। এই ভ্রমণের কোনো অংশ থেকেই তাঁকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মতো ভালোবাসা ও সহযোগিতাময় মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাঁদের কথা জীবনে কোনোদিন ভোলা যায় না। দূর প্রবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com