ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম জোর দিয়ে বলেছেন, জুলাই মাসে সংঘটিত অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য কেবল ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটানোই ছিল না। তার মতে, দেশকে যারা বিক্রি করে দেওয়ার পায়তারা করছিল, তাদের নির্মূল করাই ছিল এই গণজাগরণের মূল লক্ষ্য। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিকে রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছে, রক্তপাত করেছে এবং শারীরিক প্রতিবন্ধিত্বও বরণ করে নিয়েছে। তাই জুলাই সনদ কার্যকর করা এখন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ফটকে জুমার নামাজের পর আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফয়জুল করীম প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ এবং জুলাই সনদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একটি গণমিছিল বের করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ তোলেন যে, দেশকে দখল করে নেওয়ার বা খণ্ডিত করার স্বপ্ন যারা দেখছে, তাদের উচ্চারিত কথাগুলোকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিছক ‘স্লিপ অব টাং’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষ্যে, জাতির মধ্যে ভীতি ছড়াতে জঙ্গিবাদের নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে এবং এটিকে অস্ত্র বানিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদ, আলেম-ওলামা এবং মাদ্রাসা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। ফয়জুল করীম স্পষ্ট করে বলেন, জঙ্গি কার্যক্রম বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়, এটি ভারতের থেকে আমদানি করা, এবং এই ‘জঙ্গি-জঙ্গি খেলা’ বন্ধ করা জরুরি।
ভারতের রাজনীতিকদের বিবৃতির সমালোচনা করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলো নিয়ে একটি ‘অখণ্ড ভারত’ গঠনের স্বপ্ন প্রচার করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের উপর নির্যাতনের বিষয়টি উত্থাপন করে তিনি দেশবাসীকে ভারতের যেকোনো রকমের চক্রান্ত প্রতিহত করতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি এ কথাও বলেন যে, ধর্মের দোহাই দিয়ে সহিংসতার পথে হাঁটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সমাবেশে দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লব মূলে ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিপক্ষে এক প্রতিরোধ। তিনি অভিযোগ করেন যে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের একটি মন্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা এখনও পর্যন্ত প্রদান করা হয়নি। তার দাবি অনুযায়ী, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন বিদ্যমান, এবং এক্ষেত্রে সরকারকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ ফজলে বারী মাসউদ তার বক্তব্যে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর কালপর্বে এবং ২০২৪ সালের গণজাগরণের পরেও কিছু নেতৃত্ব দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ত্যাগ করে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিদেশি কর্তৃত্বের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি মত দেন যে, জনগণের বদলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি অনুগত থাকলে কখনোই দেশের মঙ্গল সাধিত হতে পারে না। এরপর বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটক থেকে শুরু হওয়া গণমিছিলটি পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকা অতিক্রম করে পুরানা পল্টনে এসে সমাপ্ত হয়।




