কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিন স্থগিত করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রদান করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ আসে।
গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করলে, ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান হাফিজুর রহমান। তবে হাইকোর্টের এই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ এদিন লিভ টু আপিল দায়ের করে। আবেদনটি আদালতের সম্পূরক কার্যতালিকায় স্থান পায় এবং সন্ধ্যার দিকে চেম্বার আদালতের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে বিষয়টি উত্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সাথে আলাপ করে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তনু হত্যা মামলার আসামির জামিন স্থগিত করেছেন আদালত। হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার ভেতরে আত্মসমর্পণ করতে হবে। ব্যর্থ হলে পুলিশের উপর গ্রেপ্তারের নির্দেশ অর্পণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চেম্বার আদালত আগামী রোববার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ঠিক করে রেখেছেন।
২৫ এপ্রিল পর্যন্ত হাফিজুর রহমান (৫২) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীজীবন কাটিয়েছেন। তিনি সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন। ২০১৬ সালের তনু হত্যাঘটনার সময় তার কর্মস্থল ছিল কুমিল্লা সেনানিবাস। তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর প্রাপ্ত হন বা অবসরে প্রেরিত হন। চলতি বছরেই ২১ এপ্রিল তারিখে ঢাকার কেরানীগঞ্জেরে বাসভবন থেকে পুলিশ তার গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীদিন ২২ এপ্রিল কুমিল্লা আদালতে হাজির করানোর আগে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যার সময় তনু কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি পড়াতে গিয়েছিলেন, তবে আর ফেরেননি। পরবর্তী সময়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছাকাছি একটি ঝোপের মাঝ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় যে, ধর্ষণের পর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর পরবর্তীদিনে তরুণীর বাবা এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজানা আসামিদের বিরোধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেছিলেন।



