জাল শেয়ার জামানত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের সাবেক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (এফসিএ), সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।
রায়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জালিয়াতির দায়ে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড। অর্থ আত্মসাতের দায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড। তিনটি ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে, ফলে আসামিদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম প্রথম আলোকে জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি শওকত আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর পক্ষে আইনজীবী কামরুল ইসলাম সময়ের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে। পরে তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী নামে এক ব্যক্তি ঢাকা ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন এবং ওভারড্রাফট (এসওডি) ঋণের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে ১৭ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। ঋণের জামানত হিসেবে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের এক হাজার এবং মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেডের সাড়ে সাত হাজার শেয়ার জমা দেওয়া হয়। পরে ঋণ পরিশোধের সময় যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, জামানত হিসেবে জমা দেওয়া সব শেয়ারই ভুয়া ও জাল।
অভিযোগে বলা হয়, ইউসূফ আলী প্রতারণার মাধ্যমে জাল শেয়ার জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণসুবিধা নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ কাজে শওকত আলী তাঁকে সহায়তা করেন এবং পরস্পরের যোগসাজশে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ৩১ মে ঢাকা ব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক মতিঝিল থানায় মামলা করেন। একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম তদন্ত শেষে শওকত আলীকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দেন। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হলেও পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। অধিকতর তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট চারজনকে আসামি করে নতুন অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।



