সিলেটে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বদরুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, গত মে মাসে ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যেই বিচারকাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার প্রধান আসামি ছিলেন জাকির হোসেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে তার দুই ভাইকেও অভিযুক্ত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় খালাস দেওয়া হয়েছে। মোট ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

মামলার ঘটনা বিবরণে জানা যায়, গত ৬ মে শিশুটি নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর ৮ মে ভোরে স্থানীয় একটি ডোবা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে ১১ মে রাতে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ১ জুলাই অভিযোগ গঠনের পর বিচারকাজ শুরু হয়।

অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তার দুই ভাইকে লাশ গুমের চেষ্টায় সহযোগিতার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, ৬ মে সকালে শিশুটিকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। তখন তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্যুটেকেসে বন্দী করে খাটের নিচে রাখা হয়। দুই দিন পর ঘরের পাশের ডোবায় ফেলে দেয় জাকির। প্রতিবেশীদের সঙ্গে শিশুটির সন্ধানেও অংশ নিয়েছিল সে।

শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার আসামিকে আদালত প্রাঙ্গণে আবারও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।