ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বেদম মারধর ও জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে। গত সোমবার সোনাপুর ইউনিয়নের স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে ওই গৃহবধূ (৪০) ও বৃদ্ধকে (৬৫) নির্যাতন করা হয়।

আজ মঙ্গলবার নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধ বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ এজাহারভুক্ত চার আসামি—মো. সজীব (২৮), রাকিব ভূঁইয়া (৩০), রায়হান (১৯) ও রাশেদকে (২১) আটক করেছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, কিছুদিন আগে সজীব ওই বৃদ্ধের কাছে একটি ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। বৃদ্ধ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সজীব ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেয়। এদিকে, গৃহবধূর স্বামী ছয় দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আর্থিক সংকটে তিনি ওই ইউপি সদস্য আবদুস শহীদের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার চাইতে তার বাড়িতে যান। ইউপি সদস্য বাড়িতে না থাকলেও তার বোন নারীটিকে ঘরে বসতে দেন। একই সময় ওই বৃদ্ধও ব্যক্তিগত কাজে সেখানে এলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সজীব ও তার সহযোগীরা। তারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুজনের ওপর হামলা চালায় এবং বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

হামলার একপর্যায়ে ওই দুজনের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। পরে তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে বাজারে ঘোরানো হয় এবং তওবা পড়ানো হয়। মারধরে গুরুতর আহত গৃহবধূকে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৃহবধূ জানান, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। স্বামীর চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা ধার চাইতে গিয়েছিলেন বলেই তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর ও অপমান করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করেছে। এজাহারভুক্ত চার আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।