যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী ও টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্কের হত্যা মামলার প্রাথমিক শুনানি সোমবার শুরু হয়েছে। উটাহ অঙ্গরাজ্যের ওরেম শহরের উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন ৩১ বছর বয়সী কার্ক। ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ সন্দেহভাজন টাইলার রবিনসনকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যা, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, বিচার কার্যক্রমে বাধা ও সাক্ষী প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আসামি এখনও নিজের অবস্থান ঘোষণা করেনি।
সোমবারের শুনানিতে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তারা এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাইছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তারা আগের শুনানিতেও বিভিন্ন প্রমাণ গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন এবং আদালতকক্ষে ক্যামেরা নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হন। বিচারক টনি গ্রাফের কাছে এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।
শুনানিতে চার্লি কার্কের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রী এরিকা, বাবা-মা রবার্ট ও ক্যাথরিন এবং বোন মেরি পৃথকভাবে আদালতে আসেন। শুনানি শুরুর আগে তারা স্থানীয় গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “চার্লি ছিলেন একজন প্রিয় স্বামী, পুত্র, ভাই, বন্ধু ও পিতা। প্রতিটি আদালতের কার্যক্রম তার মৃত্যুর বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। এই ক্ষতি আমাদের ও তার সন্তানদের জীবনে অপূরণীয় প্রভাব ফেলেছে।”
পরিবার আরও জানায়, “আমরা এখনও সমর্থন, প্রার্থনা ও দয়ার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই স্নেহ আমাদের জীবনের অন্ধকার সময়ে শক্তি জুগিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এই মুহূর্তে আর কোনো মন্তব্য করছি না। আমাদের শোক ও এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
শুনানির প্রথম দিনে চারজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাক্ষী সাক্ষ্য দেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। শুনানি আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলতে পারে। আসামি টাইলার রবিনসন হালকা রঙের স্যুট পরে তার আইনজীবীদের পাশে আসামির কাঠগড়ায় বসেছিলেন।
উল্লেখ্য, চার্লি কার্ক প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন এবং তরুণদের মধ্যে রক্ষণশীল মতাদর্শ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তার হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।




