বরিশাল নগরীর একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আবাসন ব্যবসায়ীকে শারীরিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই অভিযুক্তকে কারাগারে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুন নাজনীন এ সংক্রান্ত আদেশ প্রদান করেন। গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরের সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিং কোম্পানি লিমিটেডের কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আজিজ হাওলাদার একা চা পান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তার কক্ষে প্রবেশ করে উপস্থিত অন্যদের বের করে দেয় এবং মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে লিটু তাকে জাপটে ধরেন। পরে তাকে চড়-থাপ্পড় ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং একপর্যায়ে শরীরের সংবেদনশীল স্থানে চাপ প্রয়োগ করে জোরপূর্বক দুটি চেক ও দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাকে সালিসের নামে জোর করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। ওই দিনের ঘটনা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং ৪ জুন ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিত ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ হাওলাদার ২ জুন বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়। গত রোববার প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ও তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান রাসেল ওইদিন দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আজ মঙ্গলবার শুনানির জন্য আবেদনটি রাখেন এবং শুনানি শেষে দুই দিনের কারাফটক জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান রাসেল জানান, প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত শুনানি শেষে দুই দিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। এখনো মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।