বাহরাইনে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের সময় ক্রেন বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন জসিম মিয়া (২৭) নামের এক বাংলাদেশি যুবক। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নিহত জসিম মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার দড়িতাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আবদুল গফফার ও মা সামারুন বেগম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবদুল গফফার নিজেও দীর্ঘদিন বাহরাইনে কাজ করতেন। বয়সের কারণে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং বড় ছেলে জসিমকে সেখানে পাঠান। প্রায় আট থেকে নয় বছর ধরে জসিম বাহরাইনে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গতকাল দুপুরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ তোলার জন্য ব্যবহৃত একটি ক্রেন হঠাৎ ভেঙে জসিমের ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে সেখানে থাকা পরিচিত বাংলাদেশিরা পরিবারকে খবর দেন। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জসিমের বাবা আবদুল গফফার বলেন, দেশে ফেরার কিছুদিন পর তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে জসিম ছিলেন সবার বড়। তাঁর উপার্জনের ওপর নির্ভর করত পুরো পরিবার। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘রোজগারর লাগি ছেলেটারে বিদেশ দিছিলাম, সব শেষ।’

জসিমের মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছে বলে জানিয়েছেন টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফটিক আলী। বাহরাইনে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি জসিমের মরদেহ দেশে পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের কাছে এখন একমাত্র আকুতি—বেঁচে থাকা সদস্যদের ভরণপোষণের কোনো উপায় নেই।