কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের একটি বয়লার মেরামত সাপেক্ষে পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিটে আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ ফের শুরু হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাইপলাইনের অভ্যন্তরে গ্যাসের চাপও বাড়তে দেখা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিগত কয়েক দিনের ন্যায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন আর নেই। অনেক চালকই স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে গ্যাস নিতে সমর্থ হয়েছেন।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার রাত তিনটার দিকে ত্রুটিপূর্ণ টার্মিনালটির একটি বয়লার সংস্কার কার্য সমাপ্ত করে পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ইউনিট থেকে দৈনিক ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। মহেশখালায় অবস্থিত অপর একটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে আরও ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ অব্যহত আছে। তাতে সামগ্রিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি সাধিত হতে শুরু করেছে।
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক খান একই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল তারা ১৮ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পেলেও আজ তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইপলাইনে চাপ উন্নীত হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত মহেশখালীস্থ ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছিল চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিল্প-কারখানা, সিএনজি পাম্প ও আবাসিক সংযোগে। কয়েক দিন ধরে নগরীতে তীব্র গ্যাসের ঘাটতি চলছিল। বহু এলাকায় রান্নার চুলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ ছিল। ফিলিং স্টেশনগুলোতে চালকদের ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে, কেউ কেউ রাতও কাটিয়েছেন গাড়িতে বসেই।
চাহিদা ও সরবরাহের অনুপাত ছিল উল্লেখযোগ্যহারে বৈষম্যপূর্ণ। চট্টগ্রামে দৈনিক আনুমানিক ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বিগত দিনগুলোতে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল ১৯ থেকে ২০ কোটি ঘনফুটে। তবে সরেজমিনে আজ সিটি গেটের মীর সিএনজি, আকবরশাহর পাহাড়িকা ও ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গিয়েছে, আগের দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চালকেরা অনেক কম সময় অপেক্ষা করেই জ্বালানি নিতে পারছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের একটি বয়লার সয়ারু হওয়ায় সাময়িক সংকট হ্রাস পাবে, তবে পুরো টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু সম্ভব হলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসবে।




