কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেলে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শহীদ আহসান হাবিবের জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, আহসান হাবিব জুলাই যোদ্ধা নন, বরং তিনি জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁর নাম সরকারি গেজেট থেকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন এনামুল হক।
এনামুল হক তার বক্তব্যে আরও বলেন, আহসান হাবিব মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় শেখ হাসিনা তাঁদের ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন, যা তাঁর মতে জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান হেলালের নেতৃত্বে পরিবারের গণভবনে যাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
এনামুল হকের এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর জবাবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি আহসান হাবিবের জুলাই আন্দোলনের সময় দেওয়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট যুক্ত করেন।
আবদুল্লাহ আল ফারুক তার পোস্টে লেখেন, ‘আহসান হাবিব জুলাই আন্দোলনে কক্সবাজারের রাজপথে নিহত শহীদ। আন্দোলনের শুরুর দিন থেকেই সে এতে সম্পৃক্ত ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত পোস্ট করত সে।’ তিনি সারজিস আলমের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘সারজিস আলমও একসময় ছাত্রলীগ করতেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতনে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন শহীদের ব্যাপারে অযাচিত মন্তব্য আমাদের আহত করে। আহসান হাবিব, ওয়াসিম আকরাম আমাদের প্রেরণা, চকরিয়া-পেকুয়ার গর্বের ধন।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কক্সবাজার শহরে গুলিতে নিহত হন আহসান হাবিব। তার মৃত্যুর পর গণভবনে ডেকে পরিবারের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৫ সালে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আহসান হাবিবের কবর জিয়ারত করেন।
শহীদ আহসান হাবিবের প্রতি এনামুল হকের মন্তব্য ও জামায়াত নেতার পাল্টা জবাবে চকরিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।




