আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দাবা প্রতিভার আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় শুরু হচ্ছে। চীনের শেনজেনে আগামী ১৫ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান যুব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামবেন সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মালিবাগের চার মেধাবী শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ঘোষিত ১৩ সদস্যের দলে জায়গা করে নিয়েছেন তারা।
দলটিতে রয়েছেন জাতীয় জুনিয়র দাবা চ্যাম্পিয়ন ও উইমেন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার (ডব্লিউআইএম) ওয়ার্সিয়া খুশবু, অনূর্ধ্ব-১২ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাফায়াত কিবরিয়া আজান, অনূর্ধ্ব-১০ জাতীয় যুব দাবা চ্যাম্পিয়ন রায়ান রশিদ মুগ্ধ এবং তারুণ্যের উৎসব দাবা প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন জোয়েনা মেহবিশ। এছাড়া একই দলে রয়েছেন রিয়াজুল আহনাফ মোহাম্মাদ আবরার।
গত ১৪ জুলাই রাত ১০টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ দল। চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের আগে সাউথ পয়েন্টের দাবা দলটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) মো. শামসুল আলম পিএসসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল কারিকুলামের উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌস, ইংরেজি মাধ্যমের উপাধ্যক্ষ শামিম আরা রহমান মুন, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ও স্পোর্টস কো-অর্ডিনেটর শওকত সিদ্দিকী।
অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) মো. শামসুল আলম পিএসসি বলেন, ‘এশিয়ান যুব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের চার শিক্ষার্থীর বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তাদের এই অর্জন কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও মেধার স্বীকৃতি। আমরা বিশ্বাস করি, তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। তাদের সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সুনাম আরও সমৃদ্ধ হবে।’
উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্কুল দাবা প্রতিযোগিতায় সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছর কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্কুল দাবা চ্যাম্পিয়নশিপেও প্রতিষ্ঠানটির দাবা দল বাংলাদেশ ও সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের খুদে দাবাড়ুরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণ দাবাড়ুদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ নিজেদের মেধা ও দক্ষতা প্রদর্শনের। সবাই আশাবাদী, তারা দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।

