মাত্র ছয় বছর বয়সেই বার্সেলোনার নজরে পড়েছিলেন লামিন ইয়ামাল। স্পেনের শ্রমজীবী অঞ্চল রোকাফোন্ডায় বেড়ে ওঠা এই কিশোর এখন বিশ্বকাপের তৃতীয় কনিষ্ঠ ফাইনালিস্ট হিসেবে ইতিহাস গড়তে চলেছেন। আগামী রোববার স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ শিরোপা লড়াইয়ে অংশ নেবেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
রোকাফোন্ডা এলাকাটি কাতালোনিয়ার মাতারো শহরে অবস্থিত, যা বার্সেলোনা থেকে মাত্র ২০ মাইল উত্তর-পূর্বে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই এলাকার অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। ইয়ামাল নিজের শেকড়ের প্রতি গর্বিত; প্রতি গোলের পর তিনি ‘৩০৪’ নম্বর ইশারা দেখান, যা তার জন্মস্থানের পোস্টকোড ০৮৩০৪-এর প্রতি ইঙ্গিত।
ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কো থেকে স্পেনে অভিবাসন করেছিলেন। আর তার মা শিলা এবানা এসেছেন বিষুবীয় গিনি থেকে। এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল জানিয়েছেন, তার মা তাকে ১৬ বছর বয়সে জন্ম দিয়েছিলেন এবং বাবাকে রাস্তাঘাটে জিনিসপত্র কুড়িয়ে সংসার চালাতে হতো। তার ভাষায়, এটাই প্রকৃত চাপ, ফুটবল মাঠের চাপ নয়।
ছয় বছর বয়সে নিজ শহরের একটি স্থানীয় ক্লাবে খেলার সময় বার্সেলোনার স্কাউটরা তার প্রতিভা চিহ্নিত করেন। তাঁরা তাকে লা মাসিয়া নামে পরিচিত বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব একাডেমিতে নিয়ে যান, যেখান থেকে মেসি, জাভি ও ইনিয়েস্তার মতো কিংবদন্তিরা উঠে এসেছেন। মাত্র সাত বছর বয়সেই তিনি ক্লাবে যোগ দেন। ১৫ বছর বয়সে ইয়ামাল বার্সেলোনার প্রথম দলে অভিষেক করেন—১৯২২ সালের পর ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ তার ক্যারিয়ারের প্রথম বড় মাইলফলক নয়। এর আগেই ঝড়ো গতিতে ক্যারিয়ার গড়েছেন তিনি। ১৬ বছর বয়সে জর্জিয়ার বিপক্ষে ইউরো ২০২৪ বাছাই ম্যাচে স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। পরের মাসেই গ্রানাডার বিপক্ষে গোল করে লা লিগার সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরার হন। ২০২৪ সালে ইউরো কাপ জয়ে স্পেনকে সাহায্য করেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান। একই বছর ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে কোপা ট্রফি জিতেছেন তিনি।
২০২৪-২৫ মৌসুম শেষে ইয়ামালের ১৮টি গোল ও ২৫টি অ্যাসিস্ট রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি বার্সেলোনার হয়ে ৫০টি অফিসিয়াল ম্যাচ খেলা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, স্পেন জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরার এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে অংশ নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার।
সাফল্যের পথ ধরে এসেছে বিপুল অর্থ। ইএসপিএনের মতে, গত বছর ইয়ামাল ছিলেন বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ বেতনভোগী ফুটবলার, যার আয় প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে মাঠে ৩৩ মিলিয়ন এবং মাঠের বাইরে ১০ মিলিয়ন ডলার। বার্সেলোনার সঙ্গে তার নতুন চুক্তি ২০৩০-৩১ মৌসুম পর্যন্ত, যেখানে বার্ষিক বেতন প্রায় ১৯ মিলিয়ন ইউরো (২১.৫ মিলিয়ন ডলার)।
বিশ্বকাপ তার রেজ্যুমেতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জুন মাসে বিশ্বকাপ অভিষেকের ১০ মিনিটের মাথায় সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করেন তিনি। এই গোল তাকে ১৯৫৮ সালে পেলের পর বিশ্বকাপে প্রথম গোল করার দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ে পরিণত করে। রোববার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে ইয়ামাল নিজের দেশের জন্য আরেকটি জয় এনে দিতে চান। স্পেন যদি শিরোপা জেতে, তবে তিনি আরও কয়েক লাখ ডলার আয় করবেন।

