বিশ্বখ্যাত বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমসের পরবর্তী ঠিকানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে পাঁচটি শহরের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, মিনিয়াপোলিস, ফিলাডেলফিয়া, মায়ামি এবং ক্লিভল্যান্ড—এই পাঁচটি সম্ভাব্য গন্তব্য নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার আশায় জেমসের চুক্তি পেতে মরিয়া। এনবিএতে ২৩তম মৌসুমে পা রাখা এই তারকার আগমন যে কেবল চ্যাম্পিয়নশিপের সম্ভাবনাই বাড়ায় না, বরং আর্থিকভাবেও বিরল প্রভাব ফেলে, তা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ২০১৮ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জেমস যে স্টেডিয়ামে খেলেছেন, তার এক মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে অর্থনীতিতে ‘পরিসংখ্যানগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব’ পড়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, ওই এলাকায় রেস্তোরাঁ ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বেড়েছে ১৩ শতাংশ এবং কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। জেমসের উপস্থিতি শুধু স্থানীয় অর্থনীতিতেই নয়, পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্যায়নেও বিরাট পরিবর্তন এনেছে।

জেমস তার ক্যারিয়ারে তিনটি দলের হয়ে খেলেছেন: ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্স (দুই বার), মায়ামি হিট এবং সর্বশেষ লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স। ছোট বাজার হিসেবে ক্লিভল্যান্ডে তার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। ২০০৩ সালে তাকে ড্রাফট করার আগে ক্যাভালিয়ার্সের মূল্য ছিল ২২২ মিলিয়ন ডলার, যা ২০০৯ সালে বেড়ে হয় ৪৭৭ মিলিয়ন ডলার—প্রায় ১১৫ শতাংশ বৃদ্ধি। তিনি চলে গেলে মূল্য ২৫ শতাংশ কমে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির রাজস্ব ১৮৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৬৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে—১১২ শতাংশ বৃদ্ধি, যা ওই সময়ে ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। লেকার্সে পাঁচ বছরের চুক্তিতে তিনি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব এনেছেন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছেন।

ফর্মসুইফটের একটি গবেষণা অনুসারে, ২০১৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে জেমসের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার এবং রাজ্য কর রাজস্বে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার যোগ করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এই প্রবৃদ্ধির পুরো কৃতিত্ব শুধু জেমসকে দেওয়া যায় না। ২০১০-এর দশকের শুরু থেকে এনবিএ লিগব্যাপী মূল্যায়নে বিরাট উত্থান দেখা গেছে—জাতীয় টেলিভিশন চুক্তি, বৈশ্বিক দর্শক সম্প্রসারণ ও প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের কারণে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৬-১৭ মৌসুমে ইএসপিএন ও টার্নার স্পোর্টসের সাথে ৯ বছর, ২৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি বেতন সীমা বাড়িয়েছে। আগামী ২০২৫-২৬ মৌসুম থেকে শুরু হওয়া ১১ বছর, ৭৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন মিডিয়া চুক্তি এই বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

জেমসের উপস্থিতি টিকিট বিক্রিতেও প্রভাব ফেলে। ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিটি দলে যোগ দেওয়ার পর হোম গেমের দর্শক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার পরবর্তী গন্তব্য তার খেলোয়াড়ি জীবনের পরবর্তী পরিকল্পনাও নির্ধারণ করতে পারে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাইকেল জর্ডানের মতো খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। সে লক্ষ্যে তিনি এমন একটি সংস্থার সাথে সম্পর্ক চান যেখানে ভবিষ্যতে মালিকানা পাওয়ার পথ খোলা থাকে। বর্তমান এনবিএ নিয়ম অনুযায়ী সক্রিয় খেলোয়াড়রা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক হতে পারেন না, তবে লিগ সম্প্রসারণ এবং ইউরোপীয় লিগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। জেমসের এই দীর্ঘমেয়াদি উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে বর্তমান দরপত্রে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।