একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তামা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে শুরু করে সবুজ শক্তি প্রকল্প — সবকিছুতেই এই ধাতুর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন তেমন একটা বাড়ছে না, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তামার ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নির্মাণে তামার ব্যবহার অপরিহার্য। বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড, ডেটা সেন্টার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনায় এই ধাতুর চাহিদা অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধনের সক্ষমতা সেই হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফলস্বরূপ, চাহিদা ও যোগানের মধ্যে একটি বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তামার দাম এবং এর চাহিদা বাড়লেও নতুন খনি আবিষ্কার ও চালু করতে সময় লাগে। খনি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশগত অনুমোদন এবং স্থানীয় বিরোধিতার কারণেও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। ফলে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রযুক্তি খাতের এই ক্রমবর্ধমান তামার চাহিদা পূরণ করতে না পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইলেকট্রনিক্স, নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই ঘাটতি পূরণে খনি শিল্পে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নতুন কৌশল গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলেও তারা মনে করছেন।




