মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর রক্তের মধ্যে মৌলিক গঠনগত অনেক পার্থক্য বিদ্যমান, যার ফলে পশুর রক্ত সরাসরি মানুষের শরীরে ব্যবহার করলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভিন্ন প্রজাতির রক্তে থাকা অ্যান্টিজেন মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রত্যাখানের ফলাফল হিসেবে শরীরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে।

অতীতে, প্রাণীদেহ থেকে সংগৃহীত রক্তের সিরাম কিংবা ইনসুলিন ব্যবহারের প্রচলন ছিল। কিন্তু বাস্তব প্রয়োগে দেখা গেছে যে, এসব উপাদান মানবদেহে ভীষণ রকমের শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করত। এই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা পশুর রক্তের কোনো উপাদান বা ইনসুলিন ব্যবহারের পদ্ধতি পরিত্যাগ করছেন।

শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াই নয়, দীর্ঘমেয়াদী বিবেচনায় অন্যান্য প্রাণীর রক্ত ব্যবহার করলে মানব শরীরে নিরাময়ের অসাধ্য জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি সমগ্র মানব প্রজাতির জন্যই এক মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করেই মানবদেহে পশুর রক্ত ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা হয়।

প্রসঙ্গত, কৃত্রিম রক্ত তৈরি সংক্রান্ত সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ইনসুলিনের মতো জটিল জৈব উপাদান কৃত্রিম উপায়ে তৈরির সফলতা ভবিষ্যতে রক্তের বিকল্প তৈরির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।