কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক বিভিন্ন টুল এখন শিক্ষার্থীদের জন্য ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে। গেম ডেভেলপার ও প্রশিক্ষক শেখ সোহেল জানান, আগে যেখানে ফ্রিল্যান্সিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জটিল দক্ষতা অর্জনে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো, এখন এআই টুলের কল্যাণে অল্প সময়েই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কাজ করা সম্ভব, যদি প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিদ্যমান থাকে।
তিনি মত প্রকাশ করেন, চ্যাটজিপিটি ও ক্যানভার মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের রোজগার করতে পারেন। এই যাত্রা শুরু হতে পারে কন্টেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে। চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের সাহায্যে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্লগ, ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য এসইও-বান্ধব আর্টিকেল তৈরি করে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ খোঁজা যেতে পারে।
যাদের ডিজাইনে আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য ক্যানভা একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। এর সাহায্যে লোগো, টি-শার্ট ডিজাইন বা ডিজিটাল আর্ট তৈরি করে স্থানীয় বাজার বা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা সম্ভব। একইসঙ্গে, ক্যানভা এআই ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা প্রেজেন্টেশন স্লাইড নকশা করেও অর্থ উপার্জন সম্ভব। এই দক্ষতা স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বা স্টার্টআপে খণ্ডকালীন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ পাওয়ার দরজা খুলে দেয়।
প্রযুক্তির অগ্রগতিতে গেম ডেভলপমেন্টের জগৎও এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। কোডিংয়ের গভীর জ্ঞান না থাকলেও এআই-এর কল্যাণে গেম তৈরি সম্ভব হচ্ছে। চ্যাটজিপিটির মতো টুল গেমের গল্প, গেমপ্লে মেকানিকস এবং ইউনিটি বা আনরিয়েল ইঞ্জিনের জন্য প্রয়োজনীয় কোড লিখে দিতে পারে। ফলে একজন নবাগত ডেভেলপারও স্বল্প সময়ে গেম তৈরি করে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে প্রকাশ করতে পারেন। ইন-অ্যাপ বিজ্ঞাপন বা ক্রয়ের মাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন গেম ডেভলপমেন্ট মার্কেটপ্লেসে এআই দিয়ে তৈরি ডিজাইন বিক্রি করেও বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে হাইপার-ক্যাজুয়াল গেম নামে পরিচিত সহজ ও ছোট গেমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এআই মিউজিক জেনারেটর দিয়ে গেমের ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডট্র্যাক ও এআই কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্টের সহায়তায় দ্রুত এসব গেম বানিয়ে বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে বিক্রি করা যায়।
ভিডিও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও এআই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। যারা পেশাদার ভিডিও এডিটর নন, তারা ইনভিডিওর মতো এআই টুল ব্যাবহার করে সরাসরি স্ক্রিপ্ট থেকে আকর্ষণীয় ভিডিও বানাতে পারেন। অন্যদিকে, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিংয়ের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি ডেটা লেবেলিং ও এআই ট্রেনার হিসেবে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ দিচ্ছে। যারা প্রোগ্রামিং শিখছেন, তারা গিটহাব কোপাইলটের মাধ্যমে দ্রুত কোডিং ও বাগ ফিক্সিংয়ের প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টেরও বেশ চাহিদা লক্ষ করা যায়। চ্যাটজিপিটি বা ক্লড ব্যবহার করে জটিল বিষয়ের লিটারেচার রিভিউ তৈরি, দীর্ঘ লেখা সংক্ষেপণ ও রেফারেন্স সাজানো দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। ফাইভার বা আপওয়ার্কের মতো সাইটে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের এসব কাজে সহায়তা করে প্রতি প্রজেক্টে ভালো আয় করা সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার বিপুল চাহিদাকেও কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ। চ্যাটজিপিটি বা বিশেষায়িত এআই টিউটরিং টুল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা সহজেই ইংরেজি শেখার লেসন প্ল্যান, কুইজ ও কথন ইংরেজির সিলেবাস তৈরি করতে পারেন। এই এআই-নির্ভর কনটেন্ট ব্যবহার করে নিজস্ব অনলাইন ব্যাচ চালু করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানিয়ে মনিটাইজেশন করা বা আন্তর্জাতিক টিউটরিং প্ল্যাটফর্মে ভাষা শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়ে ঘরে বসে সম্মানজনক আয় করা সম্ভব বলে তিনি অভিমত দিয়েছেন।




