লিওনেল স্কালোনির অধীনে ৩৬ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এখন সেই কোচের নেতৃত্বে দলটি দাঁড়িয়ে আরেকটি মাইলফলকের সামনে—১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা। তবে ট্রফি জয়ের বাইরেও এক গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন স্কালোনি। তাঁর ভাষ্যে, ফুটবল বিশ্ব আর্জেন্টিনাকে শুধু চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নয়, বরং এক ‘কখনো হাল না ছাড়া’ দল হিসেবে স্মরণ করুক—এটাই তাঁর আসল চাওয়া।

আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন স্কালোনি। সেখানে তিনি জানান, আগের দিন আর্জেন্টিনার এক দশ বছরের শিশু ভক্তের আবেগঘন বার্তার ভিডিও দেখেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি চাই এই দলটিকে সবাই এমন এক দল হিসেবে মনে রাখুক, যারা কখনো হাল ছাড়ে না। কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়—সবাই এই ভালোবাসার জন্য ফুটবল খেলে। আমরা শুধু জয়ের জন্য খেলি না; হৃদয় থেকে আসা আবেগ যখন দেখি, সেটা অসাধারণ।’

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ছিল অনায়াস। কিন্তু নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে পড়তে হয়েছে চরম পরীক্ষা ও তীব্র চাপের মুখে। সেসব বাধা অতিক্রম করে বর্তমানে বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজদের দল। স্কালোনি জানেন, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই সহজ হবে না। সুইসদের নেতৃত্বে থাকা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকার দল শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং অভিজ্ঞতায় ভরপুর বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘বিশ্বকাপে ওদের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কলম্বিয়াকে হারিয়ে এসেছে, যারা এই আসরে দুর্দান্ত খেলছিল। তাই ম্যাচটি ভীষণ কঠিন হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই,’ বলেন স্কালোনি।

এই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা নরওয়ে। স্কালোনি মনে করেন, ট্রফির চেয়েও বড় সম্পদ এই দলের ‘হার না মানা’ মানসিকতা এবং ভক্তদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আবেগের বন্ধন। সেই নিরেট ভালোবাসাই তাঁর দলের প্রকৃত উত্তরাধিকার বলে মনে করছেন তিনি।