মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়কে ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। এই বিতর্কের মধ্যেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, তারা একটি ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ওই ম্যাচ শেষে এএফএর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু সাংবাদিকের কাছে ই-মেইল পাঠানো হয়, যেখানে দাবি করা হয় আর্জেন্টিনা জেতেনি এবং ফলাফলটি দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিংয়ের ফসল। তবে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, এই মেইলগুলো তাদের নয় এবং এগুলো হ্যাকারদের কাজ।

এএফএ জানায়, তারা একটি প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে ই-মেইল পাঠানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে এবং এই মেইলগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়, তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো যেকোনো অস্বাভাবিক বার্তা, বিশেষ করে যাতে লিংক, ফাইল বা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম 'লা কায়ে' জানিয়েছে, মিসরীয় বংশোদ্ভূত একদল হ্যাকার এই সাইবার হামলার পেছনে রয়েছে এবং ওই মেইলগুলোতে মিসরের ফুটবলারদের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছিল।

ম্যাচটি নিয়ে এর আগেই ক্ষুব্ধ ছিল মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তারা ফিফার কাছে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার দলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল মিসর। কিন্তু ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয়। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। এর পাঁচ মিনিট পর লিওনেল মেসি গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করলে আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় এবং কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি মিসরের কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে এবং তারা অবিচারের শিকার হয়েছে। তার মতে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই রেফারিরা পক্ষপাতিত্ব করেছেন এবং মেসিকে প্রতিযোগিতায় রাখার জন্যই এমনটা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে অদৃশ্য চাপ কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে। এই জয়ের ফলে আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।