বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ আটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড ও নরওয়ে মুখোমুখি হচ্ছে। এক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করছেন, এই দুটি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি, যেখানে ইংল্যান্ডকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে নরওয়ের তারকা আর্লিং হলান্ডের কারণে।

আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখার তিনটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষক। প্রথমত, টুর্নামেন্টের আগের দুই নকআউট ম্যাচ আর্জেন্টিনাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে। কেপ ভার্দের কঠিন প্রতিরোধ এবং মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে আনার সক্ষমতা দলটিকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, যাকে 'কখনো হাল না ছাড়া' মনোভাব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক। কোচ লিওনেল স্কালোনির দল এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, সুইজারল্যান্ড সম্ভবত 'লো ব্লক' বা গভীর প্রতিরক্ষা কৌশল অবলম্বন করে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে চাইবে। তবে বিশ্লেষকের ভাষ্য, আর্জেন্টিনার কাছে এই ধরনের রক্ষণ ভাঙার উপযুক্ত কৌশল ও ব্যক্তিগত দক্ষতা রয়েছে। শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনা এখন আর শুধু লিওনেল মেসির ওপর নির্ভরশীল নয়; সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে ডিফেন্ডাররাও গোল করার সামর্থ্য দেখিয়েছে, যা দলের আক্রমণভাগকে আরও বহুমুখী করে তুলেছে।

অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগের ব্যর্থতা স্পষ্ট। ফিনিশিং দক্ষতার অভাব দলটিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। মাঝমাঠে গ্রানিত জাকা প্রতিআক্রমণ শুরু করলেও সামনে পর্যাপ্ত সতীর্থ না থাকায় তা কার্যকর হচ্ছে না। ম্যানুয়েল আকাঞ্জির ওপর নির্ভর সুইস রক্ষণেও বারবার ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকের মতে, সুইজারল্যান্ডের জন্য অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ, কারণ আর্জেন্টিনা ৪-৩-৩ ফরমেশনে উইং ব্যবহার করে সুইস রক্ষণের চারপাশ দিয়ে আক্রমণ চালাতে পারে।

ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে প্রসঙ্গে বিশ্লেষক জানান, ইংলিশ খেলোয়াড়রা একাডেমি প্রশিক্ষণের কারণে যেকোনো ফরমেশন ও খেলার ধরনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। ইংল্যান্ডের মূল কাজ হবে নরওয়ের মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের খেলা বন্ধ করা, যেখানে ডেকলান রাইস ও জর্ডান হেন্ডারসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তবে ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা আর্লিং হলান্ড। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলও তাঁকে থামাতে পারেনি, কিন্তু টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড অনেক বেশি পদ্ধতিগত। হলান্ডকে থামাতে প্রথমেই বল সরবরাহের পথ বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষক। সেটি সম্ভব না হলে তাঁকে দুই ডিফেন্ডার দিয়ে ঘিরে 'স্যান্ডউইচ পজিশনে' রাখতে হবে এবং হেডের জন্য ক্রস বা লম্বা বল দেওয়া যাবে না। হলান্ড দীর্ঘ সময় নীরব থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তাই তাঁর ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজর রাখা জরুরি।

ইংল্যান্ডের নিজস্ব অস্ত্র জুড বেলিংহাম। এই বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ও মাঝমাঠের ফাঁকা জায়গা থেকে সবচেয়ে বেশি বল সংগ্রহ করেছেন এই মিডফিল্ডার। তিনি গোলের সুযোগ সৃষ্টি করছেন এবং নিজেও গোল করছেন। হ্যারি কেইনের পাশাপাশি বেলিংহাম নরওয়ের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন বলে মন্তব্য বিশ্লেষকের।