খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ব্যাখ্যা করেছেন, মানবদেহের কোষের ডিএনএতে জিনগত পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম উপাদান, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও অণুজীবকে কারসিনোজেন বলা হয়। নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য ও পণ্য এই কারসিনোজেন ধারণ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে।
অ্যালকোহল পানের ফলে শরীরে অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি হয়, যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী জিনকে সক্রিয় করে তোলে। তাই নিয়মিত মদ্যপান করলে পরিপাকতন্ত্র ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
তামাক ও তামাকজাতীয় পণ্য থেকেও ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তামাকের ধোঁয়ায় নাইট্রোসামিন নামক কারসিনোজেন উৎপন্ন হয়, যা মুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
ট্রান্সফ্যাট বা ক্ষতিকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবারও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। চিপস, চানাচুর, শিঙাড়া, পেঁয়াজু, পিৎজা ও বার্গারের মতো ফাস্ট ফুডে এই ধরনের চর্বি বেশি থাকে। শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ও কোষের ক্ষতির মাধ্যমে ট্রান্সফ্যাট ক্যানসারের পথ প্রশস্ত করে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, উচ্চমাত্রায় এই চর্বি গ্রহণ করলে কলোরেক্টাল, ওভারিয়ান এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত নাইট্রেট ও নাইট্রাইটসও বিপজ্জনক। সসেজ, হ্যাম, বেকন ও হটডগসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত মাংস ও ফাস্ট ফুডে এগুলো ব্যবহৃত হয়। উচ্চ তাপের সংস্পর্শে এসে এই উপাদানগুলো কারসিনোজেন গঠন করে, যা পাকস্থলীর ক্যানসারে ভূমিকা রাখে।
প্রক্রিয়াজাত মাছ ও মাংসের ক্ষেত্রে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় দুটি বিশেষ রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়—হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন। মাংস গ্রিল করা, আগুনে ঝলসিয়ে কাবাব প্রস্তুত করা কিংবা ভাজার সময় এই যৌগগুলো বেশি মাত্রায় উৎপন্ন হয়। এগুলো কারসিনোজেন হিসেবে বিবেচিত এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা সমৃদ্ধ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারেও অ্যাক্রিলামাইড নামক একটি কারসিনোজেন তৈরি হতে পারে। শর্করাকে উচ্চ তাপে ভাজা বা সেঁকা হলে এই যৌগ উৎপন্ন হয়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ক্র্যাকার, চিপস, তেলেভাজা বিস্কুট এবং চানাচুরের মতো পণ্য নিয়মিত গ্রহণ করলে পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার ও কোলন ক্যানসারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে শাকসবজির চাষে কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে হেভি মেটাল ও অর্গানোফসফেটের মতো উপাদান অবশিষ্ট থাকতে পারে। এই কীটনাশক-যুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল নিয়মিত খাওয়া হলে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।




