গত বছর উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ ও টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-র প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার টাইলার রবিনসনের বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন প্রসিকিউটররা। আদালতে তারা দাবি করেছেন, রাইফেলে পাওয়া ডিএনএ এবং টেক্সট বার্তায় স্বীকারোক্তি—এই দুই মিলিয়ে ২৩ বছর বয়সী এই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি দেননি রবিনসন; তার আইনজীবীরা প্রমাণের প্রতিটি অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জুরিদের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির লসি সেন্টারের ছাদ থেকে প্রায় ১২৬ মিটার দূর থেকে কার্কের গলায় গুলি করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রহস্যে ঘেরা ছিল রবিনসনের ভূমিকা। এই সপ্তাহের শুনানিতেই প্রথমবারের মতো তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে। পাঁচ দিনব্যাপী শুনানিতে রবিনসনের আইনজীবীরা ডিএনএ ও বলিস্টিক রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘ জেরা করেন। কিন্তু উটাহ কাউন্টির প্রধান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল চ্যাড গ্রুন্যান্ডার বিচারকের কাছে যুক্তি দেখান, 'টানা চার দিনের সাক্ষ্যপ্রমাণে বোঝা গেছে, মামলার প্রমাণ অপ্রতিরোধ্য এবং ধ্বংসাত্মক।'

প্রসিকিউশন শুনানিতে হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রবিনসনের নড়াচড়ার একটি বিস্তারিত চিত্র ফুটিয়ে তোলে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং তাঁর রুমমেটের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তারা এই চিত্র তৈরি করে। প্রমাণে দেখা যায়, হত্যার দিন ভোর ৪টার দিকে স্বাভাবিকের চেয়ে আগে বাড়ি থেকে বের হন রবিনসন। পরে কেম্পাসে গিয়ে চিক-ফিল-এ খাওয়া এবং টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-র কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। ফুটেজে আরও দেখা গেছে, তিনি পোশাক পরিবর্তন করেন এবং হাঁটার ভঙ্গিমা বদলান। শেষ পর্যন্ত লসি সেন্টারের ছাদে উঠে গিয়ে শুয়ে পড়েন এবং হাতে কিছু জিনিস নিয়ে নিচে নামতে দেখা যায়।

ঘটনার রাতে রুমমেট ল্যান্স টুইগসের সঙ্গে টেক্সট বার্তায় রবিনসন জানান, তিনি ক্যাম্পাসের ঝোপের মধ্যে তাঁর দাদার রাইফেল লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরে যখন ব্যাপক তল্লাশি চলছিল, তখন তিনি সেখানে ফিরে যান। রুমমেটকে তিনি লেখেন, 'আমি তোমাকে এইসব জড়ানোর জন্য দুঃখিত। তোমার এতে চিন্তিত হওয়া উচিত নয়।' টুইগস যখন জিজ্ঞেস করেন তিনি শুটার কিনা, তখন রবিনসন স্বীকার করে নেন এবং ক্ষমা চান। তাঁর টেক্সটে ছিল, 'আমি তার ঘৃণা সহ্য করতে পারিনি। কিছু ঘৃণা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা যায় না।' বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল এবং রবিনসনের বাড়ি থেকে 'হে ফ্যাসিস্ট! ক্যাচ!'—এই ধরনের বার্তা খোদাই করা বুলেট ও কার্টিজ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুনানিতে আরও জানানো হয়, রবিনসন তাঁর বন্দুকের মডেল সম্পর্কেও নিশ্চিত ছিলেন না। টুইগসের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যার কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি একটি খোদাই করার যন্ত্র ব্যবহার করার কথা জানতে চেয়েছিলেন। হত্যার পর টুইগসকে লেখেন, 'মনে আছে আমি বুলেটে খোদাই করছিলাম?' টুইগস বলেছেন, বার্তাগুলো তিনি 'অধিকাংশই মজার' মনে করেছিলেন।

রুমমেট টুইগসের ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রবিনসন হত্যার পরের দিন তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে উত্তেজিত এবং অনুতপ্ত ছিলেন। 'সে একটু কেঁদে ফেলল এবং বলল, তার ইচ্ছা হয় সে কাজটি না করতেন,' বলেন টুইগস। তাঁর ভাষ্য, রবিনসন নিজেকে ব্যস্ত রাখতে বিভিন্ন কাজ করছিলেন। হত্যার পরদিনই রবিনসন তাঁর বাবা-মা ও এক পারিবারিক বন্ধুর সঙ্গে ওয়াশিংটন কাউন্টি শেরিফ অফিসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। সেদিনের নিঃশব্দ ফুটেজে তাঁকে গাঢ় শার্ট, টুপি, জিনস ও কনভার্স জুতা পরতে দেখা যায়। পরে তাকে উটাহ কাউন্টিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ১২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে, এই শুনানিতে রবিনসন ক্লিন-শেভেন হয়ে হালকা রঙের স্যুট পরে আদালতে হাজির হন। তাঁর বাবা-মা ও দুই ভাইও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীর স্ত্রী এরিকা কার্ক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও তাঁর স্ত্রীও আদালতে ছিলেন। শুনানির সময় এরিকা তাঁর শাশুড়িকে সান্ত্বনা দিতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

উভয় পক্ষকেই এখন বিস্তারিত লিখিত সংক্ষিপ্ত বিবরণ জমা দিতে হবে। বিচারক টনি গ্রাফ আগামী ১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। এর আগে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন মামলাটি বিচারের জন্য যাবে কি না। এদিকে, কার্ক পরিবার শুনানি শেষে বিবৃতিতে বলেছে, 'প্রিয় চার্লির হার কখনো পূরণ হবে না। আমরা আশা করি, পরবর্তী ধাপে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।'