মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ইরান যদি তাঁকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে হত্যার হুমকি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইরান সরকার দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘ইরান যদি এই হুমকি কার্যকর করে, তবে তাদের দিকে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে। এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।’

এই হুমকির পেছনে রয়েছে ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার ঘটনা। মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে ইরান এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হয়েছেন ইসরায়েল-মার্কিন হামলায়। গত বৃহস্পতিবার তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ শোক প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বছর মেয়াদের জন্য প্রস্তুত, তারা ইচ্ছুক ও সক্ষম। প্রয়োজনে এই মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে। মার্কিন বাহিনী ইরানের সব এলাকা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করে দেবে।’

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরান সম্প্রতি একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের কাছ থেকে পাওয়া এই সতর্কবার্তা সম্পূর্ণ নতুন এবং একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অবশ্য কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার হবে কিনা, ট্রাম্প এখন সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতেই ইসরায়েল হয়তো এই তথ্য সামনে এনেছে। গত বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে, অর্থাৎ আমাকে সরিয়ে দিতে চায়। আমি যেকোনো তালিকায় (হিটলিস্ট) আছি। আজ সকালেই আমি দেখলাম, তাদের প্রতিটি তালিকায় আমার নাম রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমি কিছুটা ভাগ্যবান, তবে ভাগ্য হয়তো সব সময় সহায় না-ও থাকতে পারে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সপ্তাহব্যাপী শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা চালাতে পারে বলে অনেকের মধ্যে আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন এই গোয়েন্দা তথ্য দুই দেশের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।