ইরানের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম নূরনিউজ শনিবার জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তেহরান তার প্রতিশোধ হিসেবে সৌদি আরব ও সংযুক্তরাষ্ট্র আমিরাতের তেলক্ষেত্র, এবং কাতার ও ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রে বড় ধরনের আঘাত হানবে। প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, 'সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হবে'।

এমন উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটের মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পৃথক তিনটি ফোনালাপে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো 'বেপরোয়া পদক্ষেপের' দৃঢ় জবাব দেবে তেহরান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে কথা বলার সময় আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, আগ্রাসনের মুখে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে দৃঢ় ও কঠোর। টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, আলোচনায় মাশরীকের 'অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের' পরিণতি এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা প্রাধান্য পেয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরান প্রসঙ্গে মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে 'উদ্বেগ' জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন বলে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানায়। পরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সাথে আলাপে আরাগচি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশাপাশি এ ধরনের কোনো আগ্রাসনে আঞ্চলিক কোনো দেশ সম্পৃক্ত হলে ইরান 'সমান প্রতিক্রিয়া' প্রদর্শন করবে।

এই উত্তেজনার মাঝেই, কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করেছে তারা ইরানের নিক্ষেপ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তাদের বক্তব্য, কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যেই ড্রোনগুলো পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে বলেন, ইরানের প্রতি তাঁর আস্থা কমলেও জ্যারেড কুশনার, স্টিভ উইটকফ ও মার্কো রুবিওর সমন্বয়ে গঠিত তার আলোচক দল তেহরানের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনও সক্ষম। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, ইরান যেহেতু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, প্রয়োজনে তিনি ফের সেখানে আঘাত হানবেন। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একই ধরণের অঙ্গীকারভঙ্গের অভিযোগ তুলে আসছে।