রাজশাহী নগরের বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় ছয়জন যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় তীরে আনা সম্ভব হলেও নিখোঁজ রয়েছেন আফছার আলী (৬০) ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাঁদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়। ওই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তিনি ভেসে যেতে থাকলে স্থানীয় মাঝিরা নৌকা নিয়ে এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজন যাত্রীকেও উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, রাজশাহীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকা থেকে আটজন যাত্রী ঝাউগাছ কেটে নৌকায় করে ফিরছিলেন। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর ঢেউয়ের তোড়ে দুলতে দুলতে একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নদীর তীরে অপেক্ষমাণ অন্যান্য নৌকার মাঝি ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাঁদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে নদীর স্রোতের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে যান আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল।

তীরে উঠে জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম আহাজারি করতে থাকেন। তিনি ছেলের উদ্দেশ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার বলতে থাকেন, 'আমার বাপ নাই, আমার বাপ নাই! তোমাহারকে বলছি, আমার বাপ নাই!' উপস্থিত লোকজন তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তাঁদের পাওয়া গেছে, কিন্তু তিনি কিছুই মানতে পারছেন না। কেবল কেঁদেই চলেছেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল পাঁচটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলে ও নৌকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক জানান, তাদের ছয়জন ডুবুরি রয়েছেন। তাঁরা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।