রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিন শিক্ষার্থীকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এই প্রতিবাদ জমায়েত হয়। উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদসহ সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তাঁদের দাবি, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজন, যেখানে ছাত্রদল সমর্থন জানাতে অংশ নিয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নেতারা অভিযোগ করেন, আম্মার ও শিবির নেতৃত্বের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ বেপরোয়া, এবং গ্রন্থাগারের মতো জ্ঞানচর্চার স্থানে এমন হামলা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে নজিরবিহীন।
মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে হামলায় জড়িত প্রত্যেকের ছাত্রত্ব বাতিল ও তাদের গ্রেপ্তার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে; জড়িত রাকসু প্রতিনিধিদের অপসারণপূর্বক বহিষ্কার করতে হবে; প্রক্টর অফিসের কাছে দাখিলকৃত অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; নারী শিক্ষার্থী-সংক্রান্ত অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান ও সহিংসতা মুক্ত পরিমণ্ডল রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
জনসংখ্যা বিজ্ঞান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শিবলী আহমেদ বক্তৃতাকালে বলেন, রাষ্ট্র ও ছাত্র প্রতিনিধিরা বর্তমানে সাধারণ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে উপেক্ষা করে নিজস্ব রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে মেতেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের যে অঙ্গীকার ছিল— সুস্থ রাজনীতির চর্চা ও পুরনো ফ্যাসিবাদী ধারাকে প্রত্যাখ্যান— সেখান থেকে ছিটকে শিবির ও কিছু প্রতিনিধি পুনরায় ট্যাগিং-এর রাজনীতি দিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিষাক্ত করে তুলছেন। এদিকে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কৌশলপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেন, ভোটে জিতে আসা একজন জিএস-কে গ্রন্থাগারের মতো জায়গায় বেলচা হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে দেখা গেল। তিনি ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী সেই সংগঠনের উত্থানতাকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন যে, যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিলীন করতে চেয়েছিল, তাদের তৎপরতা এখনো শেষ হয়নি।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ প্রবল দাবির সুরে বলেন, আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা জঙ্গি আদলে হামলা চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করতে চেয়েছে। সম্প্রতি রাকসু ভিপি কর্তৃক সাংবাদিকদের প্রতি হুমকির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা যে কোনো ভয়ভীতি উপেক্ষা করে স্বপেশগত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি এও নিশ্চয়তা দেন, শিক্ষার্থীদের যে কোনো যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রদল অতীতের মত ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। মানববন্ধনের অপর এক প্রতিবাদ বক্তব্যে শিব্রিদের কর্মকাণ্ডকে ‘মব’ মানসিকতা বলে আখ্যা দিয়ে হামলার শিকার দুুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারেরও বিচার দাবি করা হয়।




