সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দিয়ে এক অচেনা কিশোরকে দলে ভিড়িয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ১৭ বছর বয়সী সেই কিশোরের নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। শুরুতে অনিশ্চয়তা ও সমালোচনার মধ্যে পড়লেও ধীরে ধীরে তিনি ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হন। বর্তমানে তাঁর পরিসংখ্যান বলছে, ৩৭৫ ম্যাচে ১২৮ গোল ও ৮৫ অ্যাসিস্ট। তবে শুধু সংখ্যা নয়, ট্রফির তালিকায়ও ভিনির নাম অমলিন। সাম্প্রতিক দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপায় তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র।

মাঠের এই সাফল্য তাঁর গল্পের এক দিক। অন্যদিকে, মাঠের বাইরে তিনি এক বিশাল ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপে তাঁর গায়ে ছিল ১৬টি প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপ। নেইমারের (২০টি) পর তিনিই ছিলেন স্পনসরদের সবচেয়ে প্রিয় মুখ। এই ব্র্যান্ডগুলোর বড় অংশই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রচারদূত হিসেবে মোটা অঙ্কের আয় করেন ভিনি। বর্তমানে রিয়ালের সঙ্গে তাঁর চুক্তি আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। বার্ষিক বেতন ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। আর্সেনালসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাব তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখালেও রিয়াল তাঁকে ছাড়তে মোটেও রাজি নয়। বরং চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করতে মরিয়া তারা।

এর কারণ স্পষ্ট: ২০২২ সালে চুক্তি নবায়নের সময় ভিনির ইমেজ রাইটসের প্রায় ৫০ শতাংশ রিয়ালের অধিকারে চলে যায়। অর্থাৎ ইমেজ রাইটস থেকে ভিনি যা আয় করেন, তার অর্ধেক পায় ক্লাব। এবং সেই অঙ্ক তাঁর বার্ষিক বেতনের চেয়েও বেশি। মাদ্রিদের স্প্যানিশ সাংবাদিকেরা মজা করে বলেন, ভিনি নিজের ভাবমূর্তি বেচেই নিজের বেতন নিজে উপার্জন করেন। এমন একজনকে বিক্রি করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

ভিনির ইমেজ রাইটস ও ব্র্যান্ডের তত্ত্বাবধান করে ‘রক নেশন স্পোর্টস ব্রাজিল’ নামের প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রধান নির্বাহী ফ্রেদেরিকো পেনা জানান, এ বয়সেই ভিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দলের মূল খেলোয়াড়। দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা, তারকা খ্যাতি, ব্রাজিলের তরুণদের কাছে অধ্যবসায়ের প্রতীক হওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর প্রতি ব্র্যান্ডগুলোর আগ্রহ বাড়ছেই। পেনা আরও জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে ভিনি–সম্পর্কিত বিষয় দেখভালের জন্য আলাদা কাঠামো আছে, যেখানে সিইও, সিএফও, প্রশাসন, আইন, বাণিজ্য, বিপণন ও যোগাযোগ বিভাগ রয়েছে। পাশাপাশি ভিনির ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সামাজিক কাজ চলছে, যা শিশু-কিশোরদের জন্য উদ্ভাবনী শিক্ষা ও বর্ণবৈষম্যবিরোধী শিক্ষা দেয়।

এই সামাজিক অবস্থানই ভিনিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তাঁর স্পষ্ট, দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থান তাঁকে শুধু তারকা নয়, একটি কণ্ঠস্বর বানিয়েছে। কোম্পানিগুলোর কাছে তিনি এখন শুধু গোলদাতা নন, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। মাঠে তিনি দৌড়ান, গোল করেন, ট্রফি জেতেন; মাঠের বাইরে তিনি কথা বলেন, প্রভাব ফেলেন। রিয়াল মাদ্রিদ সব সময় এমন খেলোয়াড়ই নিজেদের দলে চায়, যারা একইসঙ্গে ফুটবলার ও ব্যবসা। ভিনি সেটাই।