বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর থেকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন জোর গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই কোচের জন্মশহর সান্তা ফে থেকে উঠে এল এক অনন্য ভালোবাসার গল্প। নয় বছর বয়সী এক ক্ষুদে ভক্ত একটি কাগজের টুকরায় চুক্তিপত্র বানিয়ে কোচের কাছ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে থেকে যাওয়ার স্বাক্ষর আদায় করে নিয়েছে। সন্তা ফে প্রদেশের কারকারানার বাসিন্দা ফ্রাঙ্কো ওত্তাভিয়ানি পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছেছিল পুজাতো শহরে, যেখানে স্কালোনির পৈতৃক বাড়ি অবস্থিত। ফাইনালে হারের পরপরই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে যে চলতি বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষে হয়তো কোডের পদ ছাড়বেন স্কালোনি। এমনকি ফাইনাল শেষে নিজেই তিনি বলেছিলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি আর্জেন্টিনার কোড, এরপর হয়তো থামব।’ এ ধরনের ইঙ্গিতেই মনখারাপ হয়ে যায় ফ্রাঙ্কোর। সংবাদমাধ্যম তোদো নোটিসিয়াস-কে ফ্রাঙ্কো জানায়, স্কালোনির প্রস্থানের গুজব শুনে সে নিজেকে বলে, ‘এমনটা যেন না ঘটে, তার জন্য কিছু একটা করতেই হবে।’ সেই ভাবনা থেকেই তার বাবা সিজার ওত্তাভিয়ানির পরামর্শমতো সে একটি মনগড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে। এতে উল্লেখ করা হয়, স্কালোনিকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কোচ পদে বহাল রাখতে হবে। পুজাতোয় স্কালোনির বাড়ির সামনে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষারত অসংখ্য মানুষের ভিড়ের মধ্যে ছিলেন ফ্রাঙ্কো ও তার পরিবার। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গিয়ে পৌঁছানোর পর, বিকেল সোয়া ৫টায় কোচ লিওনেল স্কালোনি সকলকে অভিবাদন জানাতে বাইরে বেরিয়ে এলে প্রথমে একটি জার্সিতে সই করেন তিনি। ঠিক সে মুহূর্তে ফ্রাঙ্কো তার হাতে চুক্তিপত্রটি ধরিয়ে দিলে ব্যপারটি প্রথমে খেয়াল না করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি বুঝতে পেরে মুচকি হেসে সেই কাগজেও সই করে দেন স্কালোনি। তার বাবা সিজার স্মৃতিচারণ করে বলেন, «লিওকে বললাম, আপনি কীসে সই করছেন দেখেছেন? তখন তিনি হেসে বললেন, “তোমরা দারুণ তো!”» ফ্রাঙ্কোর পরিবার আর্জেন্টিনার বড় ভক্ত। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পরেও প্রথমবারের মতে। তারা পুজাতোয় স্কালোনির বাড়িতে গিয়েছিল এবং সে সময়ই ছোট ফ্রাঙ্কো কোডের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সুযোগ পায়। এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়া সত্ত্বেও তারা আবারও সম্মান দেখাতে যায়। সিজার জানান, বাড়ির সামনে তখন ‘মানুষের সাগর’ তৈরি হয়েছিল, পথে দাঁড়িয়ে থেকে স্কালোনো প্রতিদিন দুই-তিন বার করে বাইরে এসে স্বাক্ষর দিচ্ছেন। বাসায় ফেরার পর পরিবারটি বিষয়টিকে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) নজরে আনতে একটি ভিডিও বানায়, যেখানে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে স্কালোনির চুক্তি নবায়নে ভূমিকা রাখার অনুরোধ করা হয়। সিজার বলেন, «আমরা কখনও কল্পনা করিনি যে পুরো বিষয়টি এত দ্রুত ভাইরাল হয়ে যাবে। এতে আমি ভীষণ গর্বিত এবং এত অল্প বয়সে ফ্রাঙ্কোর জন্য এটি একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।» উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়া স্কালোনির আওতায় আর্জেন্টিনা দীর্ঘ ৩৬ বছরের বিশ্বসীম খরা কাটিয়েছে, পাশাপাশি জিতেছে পরপর দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি ফিনালিসিমা। তার জামানায় দলটি টানা দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে। তাই তিতীয় বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার থাকার পক্ষে পুরো আর্জেন্টিনাই। ফ্রাঙ্কো যেমন বলেন, «আমার কাছে জাতীয় দলই সব, আমি চাই না স্কালোনি চলে যান। আমিও ফুটবল খেলি এবং একদিন দলে খেলার স্বপ্ন দেখি।»