ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত। আগামী ১২ অক্টোবর এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। সোমবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বেলাল হোসেন জানান, আজ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এ উপলক্ষে কারাগারে আটক চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তবে আদালতের পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় আসামিদের কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
২০১৫ সালের ৭ আগস্ট দুপুরে ঢাকার গোরান এলাকার ভাড়া বাসায় ঢুকে নীলাদ্রিকে হত্যা করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় একটি ই-মেইল বার্তায় আনসার আল ইসলাম নামের একটি সংগঠন এই হত্যার দায় স্বীকার করে। পরদিন রাতে খিলগাঁও থানায় নীলাদ্রির স্ত্রী আশামনি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করা হয়।
পাঁচ বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে রিফাত ওরফে ফাহিম ওরফে জিসান, মাসুদ রানা, আরাফাত রহমান সিয়াম, মোজাম্মেল হোসেন সায়মন, সাদ আল নাহিন, তারেকুল আলম, মাওলানা মুফতি আবদুল গাফফার, মর্তুজা ফয়সাল সাব্বির, কামাল হোসেন সরদার, কাউসার হোসেন খান এবং মো. শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের।
মামলার নথি অনুযায়ী, এ মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আশামনিসহ পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২২ সালের আগস্টে প্রথম সাক্ষ্য দেন আশামনি।
নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (২৭) গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তিনি 'নিলয় নীল' নামে বিভিন্ন গোষ্ঠীবদ্ধ ব্লগে লিখতেন। ফেসবুকেও ছিলেন একই নামে।
ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বেলা একটার দিকে নীলাদ্রি খিলগাঁওয়ের ভাড়া বাসায় ল্যাপটপ নিয়ে শোবার ঘরে কাজ করছিলেন। কড়া নাড়ার শব্দে দরজা খুলে দেন তাঁর স্ত্রী আশামনি। ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তি ঘরে ঢোকেন। ভেতর থেকে নীলাদ্রি বেরিয়ে এসে লোকটিকে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিতেই আরও তিন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা আশামনি ও বেড়াতে আসা তাঁর ছোট বোন তন্বীকে আটকে রেখে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নীলাদ্রির মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা নীলাদ্রির ল্যাপটপ ও মুঠোফোন নিয়ে যায়। এরপর খিলগাঁও থানায় আশামনি মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ।




