চট্টগ্রামে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ তৈরি করে লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। রোববার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও বাঁশখালী উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন মো. আশরাফ আলী খান (৩৬), মো. নিশান (৩৬), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন (৪৮) ও মো. আবদুর রহমান (৪৬)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চক্রটি পুলিশ কর্মকর্তাদের নকল সই ও সিল ব্যবহার করে জাল সনদ প্রস্তুত করত। সনদটিকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে কিউআর কোড স্ক্যান করলে সনদের তথ্য দেখা যেত। এই ওয়েবসাইটটি বাংলাদেশ পুলিশের মূল ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত বাঁশখালীর বাসিন্দা জাকির হোসেনের মাধ্যমে। বিদেশে যাওয়ার জন্য তার পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা থাকায় সরাসরি আবেদন করতে পারেননি তিনি। এ সুযোগে তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি দ্রুত সনদ পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা দাবি করেন। গত ২১ জুলাই ৮০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয় এবং ১২ আগস্ট জাল সনদ হস্তান্তরের পর বাকি টাকা আদায় করা হয়।
জাল সনদটি একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে জমা দিলে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জাকির হোসেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, চক্রটির মূল হোতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের জালিয়াতি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, কারণ এটি সরকারি নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।
পুলিশ জানায়, জাকির হোসেনের কাছ থেকে নেওয়া ১ লাখ ২৩ হাজার টাকার মধ্যে জাল সনদ তৈরি ও ভুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনার খরচ ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। বাকি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চক্রটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) জুনায়েদ কাউসার জানান, চক্রটিতে বেশ কয়েক স্তরের সদস্য রয়েছে। কেউ দালালের কাজ করে, আবার কেউ কেউ প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ — যারা কিউআর কোড ও নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনই মূলত দালাল হিসেবে কাজ করতেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাকির হোসেনের ভাই নূর হোসেন বাঁশখালী থানায় মামলা করেছেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বিদেশগামী নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার জন্য কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।




