সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি পোস্ট করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। তাদের নিজ নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সেই ছবিতে কেয়া পায়েলকে জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখা যায় আরিফিন শুভকে। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড উইথ কেয়া পায়েল’ এবং কেয়া পায়েলের পোস্টে উল্লেখ করা হয় ‘হ্যাপিলি ম্যারিড উইথ আরিফিন শুভ’। পোস্টটি প্রকাশের পর মুহূর্তেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ অভিনন্দন জানালেও, অনেকে ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তন হিসেবে দেখতে শুরু করেন এই বার্তাকে। তবে প্রকৃত ঘটনা হলো, এটি তাদের ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নয় বরং আসন্ন চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর প্রচারণামূলক একটি কৌশল।

প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। জাহিদ প্রীতমের পরিচালনায় নির্মিত এই ফিল্মটি মিনিস্ট্রি অব লাভ (এমওএল) প্রকল্পের অধীনে সপ্তম চলচ্চিত্র। সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছে ছবিয়াল। সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরায়ত বন্ধন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর কাহিনি।

পরিচালক জাহিদ প্রীতম জানান, কাছাকাছি সময়ের দুটি ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের গল্প এটি। ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন পাওয়া যাবে এই সিনেমায়। তিনি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটি উপলব্ধি তৈরি করতে পারবেন তিনি। চলচ্চিত্রে আরিফিন শুভ অভিনয় করেছেন আনিস নামের এক চরিত্রে। আগের অ্যাকশনধর্মী বা শক্তিশালী পুরুষ চরিত্রের বাইরে এবার তাকে দেখা যাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবয়বে। শুভ নিজেই বলেন, ‘উনিশ২০’-এর পর চরকির সঙ্গে এটি তার নতুন কাজ। এটি একটি রম-কম ঘরানার সিনেমা। তিনি জানান, এ ধরনের চরিত্রে তিনি আগে অভিনয় করেননি। দর্শকরা যেভাবে তাকে দেখতে অভ্যস্ত, এখানে সেভাবে দেখা যাবে না—অর্থাৎ এটি কোনো কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন নয়।

শুভর ভাষ্যমতে, তার চরিত্রটি মফস্বলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক যুবক, যার পুরো পৃথিবী জুড়ে রয়েছে পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষ। গল্পের অপর প্রান্তে রয়েছে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা তরুণী অনামিকা, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। এই চরিত্রটি আবর্তিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি ও ভার্চ্যুয়াল জগতের মোহনীয় স্বপ্নকে ঘিরে। কেয়া পায়েল বলেন, একাধিক কারণে তার খুব ভালো লাগছে। প্রথমত তার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই, দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটি তার প্রথম কাজ এবং তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। নিজের চরিত্র সম্পর্কে তিনি জানান, এটি প্রেমে পড়ার মতো একটি চরিত্র এবং এতে অভিনয়ের অনেক লেয়ার রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে দর্শক তাকে আরেকটু ভিন্নভাবে দেখতে পাবেন বলে জানান তিনি।

পরিচালক জাহিদ প্রীতম বলেন, প্রতিদিনের সামাজিক দূরত্ব, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং এর সঙ্গে পারিবারিক মূল্যবোধের যে সংঘাত, তার বাস্তবসম্মত প্রতিচ্ছবি মিলবে এই কনটেন্টে। তার দাবি, ফিল্মটিতে হিউমার, রোমান্স ও আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্ত রয়েছে যা দর্শকদের স্পর্শ করবে।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটি সম্পর্কের গল্প দর্শকেরা দেখতে পারবেন। গল্পের কারণেই ফিল্মটির সহপ্রযোজনায় যুক্ত হয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিনি জানান, ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুজন মানুষের দ্বন্দ্ব, খুনসুটি ও নিজেদের ভাবনাগুলো মেলানোর চেষ্টা—গল্পের এই বিষয়টি তার খুব ভালো লেগেছে। এ কারণে তিনি কাজটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, গল্পের মতো করেই মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখা যাবে, যা দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আশা করছেন।

চরকিতে এর আগে আরিফিন শুভকে সর্বশেষ দেখা গেছে ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উনিশ২০’-এ। অন্যদিকে ‘ঘুমপরী’র পর এটি জাহিদ প্রীতমের দ্বিতীয় চরকি অরিজিনাল ফিল্ম। মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের অধীনে এর আগে মুক্তি পেয়েছে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগ্যামি’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬–২৪–৩৬’ ও ‘ডিমলাইট’।