বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ পথ তৈরি করেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৪ সালে বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত সেমিফাইনালে ওঠা ৩৬ দলের মধ্যে তারাই একমাত্র, যারা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-তে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে খেলেনি। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা এ পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে মিসর (২৯), কেপ ভার্দে (৬৭), জর্ডান (৬৩), অস্ট্রিয়া (২৪), আলজেরিয়া (২৮) ও শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের (১৯)। এসব প্রতিপক্ষের বিশ্বকাপ-পূর্ববর্তী গড় র্যাঙ্কিং দাঁড়িয়েছে ৩৮-এ, যা যেকোনো সেমিফাইনালিস্টের পথের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এই বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের তালিকায় আর্জেন্টিনার পরেই রয়েছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া (১১) ও শেষ ষোলোয় মেক্সিকো (১৪) বাদে বাকি চার প্রতিপক্ষই ছিল শীর্ষ ১৫-এর বাইরের। তবে শীর্ষ ১০-এর কোনো দলকে পায়নি আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ড, কাউকেই। পূর্ববর্তী আসরগুলোতে ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড শীর্ষ ১৫-এর একমাত্র দল হিসেবে বেলজিয়ামের (৩) মুখোমুখি হয়েছিল সেমির আগে। ২০১০ সালের উরুগুয়ের প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্স (৯), আর ২০০২ সালের তুরস্ক শুধু ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলেছিল। একই বিশ্বকাপে জার্মানি পেয়েছিল আয়ারল্যান্ড (১৫) ও যুক্তরাষ্ট্রকে (১৩)।

যেখানে আর্জেন্টিনার পথ সবচেয়ে সহজ, সেখানে সবচেয়ে কঠিন পথ পেরিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার নজির রয়েছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মরক্কোর। তারা গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া (১২) ও বেলজিয়াম (২) এবং নকআউটে স্পেন (৭) ও পর্তুগালের (৯) মতো চারটি শীর্ষ ১৫ দলের বাধা অতিক্রম করেছিল। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও সেমির আগে চারটি শীর্ষ ১৫ দলের (পেরু, ডেনমার্ক, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে) বিপক্ষে খেলেছিল। ২০০২ সালে সহ-আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়ার পথে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, ইতালি ও স্পেন—চারটি শীর্ষ ১৫ দল।

এবারের আসরে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে উরুগুয়ের ৭২ বছরের একটি রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। আগামী বুধবার রাতে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামবে তারা। এই ম্যাচের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে আর্জেন্টিনার এই সহজ পথ সত্যিকারের শক্তির পরীক্ষায় কতটা কার্যকর হয়।