ফিফা বিশ্বকাপের আসর যেখানে খেলা থামে সেখানে গান শুরু হয়। দর্শকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হওয়া সুরগুলো কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং খেলোয়াড়দের আবেগের সাথে মিশে যায়। ফিফার ‘স্টেডিয়াম এন্টারটেইনমেন্ট টিম’ প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে একটি বিশাল গানের তালিকা প্রস্তুত করে। এই আয়োজনের জন্যও তেমনিভাবে ৭৫০টি গানের একটি সম্ভার তৈরি করা হয়েছিল, যেখান থেকে প্রতিটি দল তাদের পছন্দনীয় গান বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়।

প্রত্যেক দলের জন্য তিনটি করে গান সংরক্ষিত থাকে—একটি খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণার মুহূর্তের জন্য, দ্বিতীয়টি গা গরম করার সময় এবং তৃতীয়টি গোল উদযাপনের জন্য। তবে শুধু শুরুতে নির্ধারিত গানই বাজে তা নয়; বরং দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে সুর বদলে যায়। সমর্থকেরাই মূলত ঠিক করে দেন কোন গানটি মাঠে বাজবে।

ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি বিশেষভাবে স্পষ্ট। ওয়েসিসের ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গানটি দর্শকদের এতটাই পছন্দ হয়েছে যে এটি ইংল্যান্ড ম্যাচের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর সমর্থকদের গাওয়া এই গান খেলোয়াড়দের রোমাঞ্চিত করে তোলে। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন নিজেই স্বীকার করেছেন, তার ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত ছিল দর্শকদের সাথে এই গানে কণ্ঠ মেলানো।

শুধু হ্যারি কেইন নন, জুড বেলিংহামের জন্যও আলাদা একটি গান রয়েছে। বিটলসের বিখ্যাত ‘হেই জুড’ গানটি বেলিংহামের নামের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে। যখনই বেলিংহাম গোল করেন, সঙ্গে সঙ্গেই এই গান বেজে ওঠে, আর তিনি ছুটে যান দর্শকদের দিকে। ‘হেই জুড’ এখন যেন জুড বেলিংহামের নিজস্ব গানে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, নিল ডায়মন্ডের ‘সুইট ক্যারোলিন’ গানটির সাথে ইংলিশ সমর্থকদের সম্পর্ক আরও গভীর। করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ সময় মাঠে দর্শক অনুপস্থিত থাকার পর যখন তাঁরা ফিরে আসেন, তখন ‘সুইট ক্যারোলিন’ তাদের হাত ধরার ও কাছাকাছি আসার আকুলতাকে প্রকাশ করেছিল। গানের সেই লাইনগুলো এখন দর্শকদের আশা ও আবেগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য দলগুলোও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে গানের মাধ্যমে। আর্জেন্টিনা বেছে নিয়েছে লস ফ্যাবুলোসোস ক্যাডিলাকসের ‘এল মাতাদোর’ গানটি, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাস। মেক্সিকো তাদের ঐতিহ্যবাহী মারিয়াচি গানকে প্রাধান্য দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ তাদের জনপ্রিয় কে-পপ ও বিটিএস গানগুলো বিশ্বকাপের মাঠে তুলে এনেছে। আর কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলের পর বেজে ওঠে ডাফ্ট পাঙ্কের ‘ওয়ান মোর টাইম’। বিশ্বকাপের এই সুরেলা পরিবেশ যেন ফুটবলের আবেদনকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।