বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর পর্বে আজ মাঠে নামছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। এই লড়াইয়ের ফলাফল নির্ধারণে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পাঁচটি কারণ এই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
প্রথমেই আলোচনা করা যাক দুই দলের কোচের কৌশলগত লড়াই। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী, অন্যদিকে নরওয়ের কোচ স্তালে সলবাকেন তাঁর দলকে আক্রমণাত্মক ধারায় খেলান। সলবাকেনের দল ব্রাজিলের বিপক্ষেও নিজেদের চেনা শৈলী ধরে রাখতে চাইবে। তবে ব্রাজিলের শক্তিশালী আক্রমণের মুখে নিজেদের রক্ষণ সামলানো তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। ইউরোপীয় ফুটবল ও দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের এই ভিন্নতা ম্যাচে আকর্ষণীয় মাত্রা যোগ করবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের বর্তমান ফর্ম। চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সর্বশেষ আইভরি কোস্টের বিপক্ষেও জাল কাঁপিয়েছেন তিনি। গত ১৩ ম্যাচে নরওয়ের হয়ে ২৫ গোল করার রেকর্ড তাঁর ভয়ংকর সামর্থ্যের প্রমাণ। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিওসের ওপর কঠিন দায়িত্ব থাকবে এই ‘গোলমেশিনকে’ থামানোর। হলান্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে নরওয়ের আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যাবে।
অপর দিকে ব্রাজিলের প্রধান অস্ত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। উইং ধরে তাঁর অসাধারণ গতি ও ড্রিবলিং নরওয়ের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের কাছে চার গোল খাওয়া নরওয়ের ডিফেন্স ভিনির সামনে কঠিন পরীক্ষায় পড়বে। ভিনিসিয়ুস বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, যা ব্রাজিলের জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট। তিনি শুধু গোলই নন, অ্যাসিস্টেও দলকে প্রভাবিত করতে পারেন।
এছাড়া পরিসংখ্যান বলছে, ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে নেই। এ পর্যন্ত চারবার নরওয়ের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিল একবারও জিততে পারেনি। নরওয়ে জিতেছে দুবার এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও নরওয়ের কাছে হেরেছিল ব্রাজিল। এই ‘নরওয়েজিয়ান জুজু’ ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মনে অদৃশ্য মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে, যা কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তাও এই ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বেশিরভাগ গোল এসেছে ৩০ মিনিটের পর, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তারা বেশি শক্তিশালী খেলে। অন্যদিকে নরওয়ের ম্যাচ মানেই শেষ মুহূর্তের নাটক। সর্বশেষ ম্যাচে তারা ৮৬ মিনিটে গোল করে জয় নিশ্চিত করেছিল। তাই শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বলা অসম্ভব। এই স্নায়ুযুদ্ধে যারা ধৈর্য ধরে রাখতে পারবে, তারাই শেষ হাসি হাসবে।
সব মিলিয়ে, এই পাঁচটি বিষয়—কোচিং কৌশল, হলান্ড-ভিনি দ্বৈরথ, ইতিহাসের মানসিক চাপ ও শেষ মুহূর্তের ফর্ম—ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে ধরা হচ্ছে।




