বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের আগের ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়ার পর এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো ফ্রান্সকে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়ের জন্য তাদের নতুন পথ খুঁজে নিতে হলো, কারণ প্রতিপক্ষ দলটি ‘ডার্ক আর্টস’ বা বিতর্কিত কৌশল ব্যবহার করে অনেককে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

প্যারাগুয়ের এই খেলার ধরনকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দর্শক ও বিশ্লেষকদের এক বড় অংশ। প্রতিপক্ষের আগ্রাসী ও অপ্রচলিত কৌশলের কারণে ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জয়ের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে দলটি।

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা বারবার ফাউল, সময়ক্ষেপণ ও মানসিক চাপ সৃষ্টির মতো কৌশল প্রয়োগ করে। এতে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ব্যহত হয় এবং ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও হতাশ হয়ে পড়েন। দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি কোচ কৌশলগত পরিবর্তন এনে দলকে নতুন করে সংগঠিত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাগুয়ের এই কৌশল আন্তর্জাতিক ফুটবলের নৈতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে ম্যাচের রেফারি পুরো সময় জুড়ে অনেক সিদ্ধান্ত বিতর্কিত থেকে যায়, যা প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের আরও উৎসাহিত করে।

ফ্রান্সের অধিনায়ক ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানতাম এটি সহজ হবে না। প্যারাগুয়ে খুব শক্ত প্রতিপক্ষ। তাদের কৌশল আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে আমরা ধৈর্য ধরে নিজেদের খেলাটা খেলেছি এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি।’

প্যারাগুয়ের কোচ অবশ্য নিজেদের কৌশলকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘আমরা জয়ের জন্য যেকোনো বৈধ উপায় গ্রহণ করি। ফুটবলে কখনও কখনও সৌন্দর্যের চেয়ে ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তার এই বক্তব্য সমালোচকদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।

এই জয়ের মাধ্যমে ফ্রান্স বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের ভাগ্য নির্ভর করছে গ্রুপের অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর। তবে ফুটবল বিশ্বে প্যারাগুয়ের এই কৌশল দীর্ঘদিন আলোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।