পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সোমবার এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও কোনো সাক্ষী হাজির না থাকায় বিচারক তা পুনর্নির্ধারণ করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১৬ জুলাই বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবির আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ প্রকাশের পরই তিনি দেশত্যাগ করেন।

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩ মে তাঁর অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, বেনজীর আহমেদ তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁর বৈধ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা, যা থেকে ব্যয় বাদ দিলে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে সাবেক এই পুলিশ প্রধান জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রতীয়মান হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ অর্থের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করতে বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি কারবারে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তরের আশ্রয় নিয়েছিলেন।