কেশবপুর উপজেলায় দ্বিতীয় কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনায় এক স্বামী তার স্ত্রী ও নবজাতককে ক্লিনিকে পরিত্যাগ করে চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে প্রসূতি ও শিশুটি এখন নিরাপদ আছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বিষয়টি জানতে পেরে ক্লিনিক থেকে মা-শিশুকে উদ্ধার করে আত্মীয়ের কাছে পাঠিয়ে দেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জুলাই। কেশবপুরের মধ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিনের স্ত্রী সাজেদা মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। দম্পতির আগে থেকেই একটি দুই বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের খবরে রুহুল আমিন নাখোশ হন এবং তিনি আর ক্লিনিকে যাননি। স্ত্রী ও নবজাতকের খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেন।

এই অবস্থায় ক্লিনিকের মালিক জাহিদুল ইসলাম বিপাকে পড়েন। তিনি কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। খবরটি ইউএনও রেকসোনা খাতুনের নজরে এলে তিনি বুধবার (১৫ জুলাই) ক্লিনিকে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন। তিনি সাজেদাকে তার মা রাফিজার কাছে মনিরামপুরের বাঙালিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেন। ইউএনওর অনুরোধে জাহিদুল ইসলাম ক্লিনিকের অস্ত্রোপচারের ১২ হাজার টাকা বিল মওকুফ করে দেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবারও দেওয়া হয়।

রুহুল আমিনের বক্তব্যে জানা যায়, তিনি ট্রাকচালকের সহায়ক হিসেবে কাজ করেন। তার ভাষ্যমতে, আর্থিক সংকটের কারণেই তিনি ক্লিনিকে যেতে পারেননি। তিনি স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে আসার অভিযোগ নাকচ করে দ্রুত তাদের বাড়ি নিয়ে আসার আশ্বাস দেন।

সাজেদার মা রাফিজা বিভিন্ন বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তার অভিযোগ, প্রথম সন্তান জন্মের সময়ও রুহুল আমিন হাসপাতালের খরচ দেননি। তিনি আরও জানান, ৮ জুলাই থেকে রোববার পর্যন্ত তিনি ক্লিনিকে মেয়ের পাশে ছিলেন, কিন্তু কাজের চাপে শেষ দুইদিন খোঁজ নিতে পারেননি।

ইউএনও রেকসোনা খাতুন ঘটনাটিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নারীরা সব সময় অবহেলিত থাকেন এবং কন্যাশিশুরা বিশেষভাবে উপেক্ষিত হয়। তিনি আশ্বস্ত করেন যে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মতি পাওয়া গেছে এবং অচিরেই মা ও শিশুকে তাদের স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।