জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। শনিবার ওই কলেজকেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ৯০০-এর বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। কিন্তু নিয়মিত শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষে ভুলবশত গত বছরের সিলেবাস অনুযায়ী অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এতে ২০২৬ সালের সিলেবাসের ১০০ জন পরীক্ষার্থী ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন। ভুক্তভোগী এসব পরীক্ষার্থী সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।
পরীক্ষা শেষে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে শনিবার রাতে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামসহ একটি দল কলেজে গিয়ে তদন্ত করে। তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি লক্ষ করা গেছে বলে জানান তিনি। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা কলেজে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করি। তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি লক্ষ করা গেছে। এ কারণে কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে এবং অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হবে না; বোর্ড সব সময় পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। মূলত কলেজ কর্তৃপক্ষ রিজার্ভ প্রশ্ন থেকে ভুলবশত এই প্রশ্নপত্রগুলো বিতরণ করেছিল। তাই এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কলেজ কর্তৃপক্ষের। পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।’




